
মন্দিরের দানবাক্স থেকে উদ্ধার ৫৮.৭ কেজির আফিম
মন্দিরের দানবাক্সে কেজি কেজি আফিম ! শুনতে অবাক লাগলেও রাজস্থানের চিতোরগড়ে সানওয়ালিয়া শেঠ মন্দিরের দানবাক্সে ৫৮.৭ কেজি আফিম মিলেছে ৷ মন্দিরের তরফ থেকে নারকোটিক্স দফতরকে খবর দেওয়া হয় ৷ বৃহস্পতিবার দফতরের আধিকারিকরা এসে এই বিপুল পরিমাণ আফিম বাজেয়াপ্ত করেন ৷ মন্দিরটি রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশের সীমানায় অবস্থিত ৷ প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিপুল আফিম মন্দিরের দানবাক্সে পৌঁছলো কী করে ? এর নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর ও নীমচ জেলার আফিম চাষ ৷ এই দুই জেলার আফিম চাষ ভালো হলে কৃষকরা সানওয়ালিয়া শেঠের মন্দিরে দেবতার উদ্দেশে আফিম নিবেদন করেন ৷ সেই আফিম যায় দানবাক্সে ৷ এভাবেই সোনা, রুপো, অর্থের সঙ্গে দানবাক্স ভর্তি হতে থাকে আফিমের মতো মাদক দ্রব্যে ৷ এর আগে দানবাক্সে জমা হওয়া আফিম ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করে দেওয়া হত ৷ কিন্তু নারকোটিক্স দফতরের নয়া নিয়ম অনুযায়ী এই আফিম কাউকে দেওয়া নিষেধ ৷ তাই স্বাভাবিকভাবে বিগত কয়েক বছরে মন্দিরের দানবাক্সে আফিম জমে 58.7 কেজিতে পৌঁছেছে ৷এবার মন্দিরের দানবাক্সে এই বিপুল পরিমাণ আফিম পেয়ে নারকোটিক্স দফতরে চিঠি দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ ৷ এরপর চিতোরগড় এবং নীমচ-এর কেন্দ্রীয় নারকোটিক্স দফতরের আধিকারিকরা সানওয়ালিয়া শেঠের মন্দিরে পৌঁছন এবং প্রায় 60 কেজি ওজনের আফিম বাজেয়াপ্ত করেন ৷ সরকারি সূত্রে খবর, এই আফিম পরীক্ষা করে দেখা হবে ৷ তারপর নীমচ-এ অবস্থিত আফিম কারখানায় রাখা থাকবে ৷ মন্দিরের দানবাক্স থেকে আফিম উদ্ধার প্রসঙ্গে মন্দিরের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বহু ব্যবসায়ী তাঁদের ইচ্ছেপূরণের পর দেবতার উদ্দেশে নানাবিধ মূল্যবান জিনিস নিবেদন করেন ৷ তেমনই আফিম কৃষকরাও চাষে লাভ হলে মন্দিরের দানবাক্সে আফিম দিয়ে যান ৷ এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মন্দিরের বেসমেন্টে আফিম জমে 58 কিলো হয়ে গিয়েছিল ৷ তখন নারকোটিক্স দফতরকে খবর দেওয়া হয় ৷