রাম নবমীতে অশান্তি রুখতে সতর্ক প্রশাসন, রাজ্যে বিশেষ দায়িত্বে ২৯ আইপিএস

রামনবমীর দিন রাজ্যের সর্বত্র এলাকাভিত্তিক নজরদারি চালাতে ২৯ জন আইপিএসকে বিভিন্ন জেলার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এরই পাশাপাশি একাধিক জেলায় নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করবে পুলিশ। অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও রামনবমীর মিছিল যাতে না হয় সে দিকে বিশেষভাবে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে। বেআইনি ভাবে মিছিল করলে কড়া পদক্ষেপ করতেও বলা হয়েছে। আগামিকাল, রবিবার রামনবমী। তার আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের টহলদারি এবং নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো পোস্ট করে উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। পুলিশের আবেদন, কোথাও অশান্তির খবর এলে সঙ্গে সঙ্গে যেন থানায় যোগাযোগ করা হয়। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকাতেও রামনবমীর দিন নিরাপত্তা জোরদার করতে কেমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন পুলিশকর্তারা। লালবাজারের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি থানা এবং ডিভিশনের ডিআরও,ব্যাটেলিয়নকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইতিমধ্যে মোট ২৯ জন আইপিএসকে ইসলামপুর, কোচবিহার, মালদা, হাওড়া রুরাল, শিলিগুড়ি, চন্দননগর এবং ব্যারাকপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, রামনবমীর দিন মিছিল করা নিয়ে গত কয়েক বছরের মতো এ বারেও মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে আগে গোলমাল হয়েছে, এমন উদাহরণ সামনে এনে রাজ্য শোভাযাত্রার অনুমতিতে আপত্তি তোলে। প্রতিবারের এই প্রবণতা থেকে শুক্রবার এমন একটি মামলায় রাজ্যকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন করেন, ‘দুর্গাপুজোয় কোথাও গন্ডগোল হলে কি দুর্গাপুজো বন্ধ করে দেব? পুলিশের হাতে গোলমাল ঠেকাতে ক্ষমতা থাকা এবং তার প্রয়োগ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।’ রাজ্যকে বিচারপতি ঘোষের সতর্কতা, ‘কোনও এলাকা নিয়ে পুলিশ যদি স্পর্শকাতর বলে প্রতিবছর আশঙ্কা প্রকাশ করে, তাহলে সেটা রাজ্যের পক্ষে ভালো দেখায় না।’ শুনানিতে দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে শেষ পর্যন্ত অবশ্য রবিবার হাওড়ায় দুটি সংগঠনের রামনবমীর শোভাযাত্রায় শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারপতি আরও বলেন, ‘যদি শোভাযাত্রা বন্ধ করতে হয়, তাহলে সব কর্মসূচিই বন্ধ করে দেব, রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক।’ অন্যদিকে, রামনবমীর কথা মাথায় রেখে আসানসোল মহকুমায় প্রথমবার জামুরিয়া, রানিগঞ্জ, আসানসোল, কুলটি–সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন রুটে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে না।পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশও মিছিলে ডিজে বাজানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পুরুলিয়ার গোশালা মোড় থেকে শহরের প্রধান রাস্তা দিয়ে রামনবমীর সব থেকে বড় মিছিল বের হয়। শুক্রবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীকাল রামনবমী উপলক্ষ্যে বিজেপি (BJP)-র যেমন মিছিল রয়েছে, তেমনই পথে নামছে তৃণমূলও। শুধু কলকাতা নয়, আসানসোল, শিলিগুড়ির মতো হিন্দিভাষী মানুষের বসবাস যেখানে বেশি, সেই এলাকাগুলিতেও মিছিল করবে রাজ্যের শাসকদল। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, আগামীকাল তাদের কুইক রেসপন্স টিম তৈরি থাকবে। হেস্টিংস, এন্টালি, কাশীপুর সহ যেসব জায়গায় বড় মিছিল হয়, সেখানে পদস্থ আধিকারিকরা থাকবেন। থাকছে বাইকে টহলদারির ব্যবস্থা। এনিয়ে এদিনই লালবাজারে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, গত বছর রামনবমীতে কমবেশি ৬০টি মিছিল হয়েছে কলকাতায়। এবারও সংখ্যাটি তেমনই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। হাওড়া, হুগলি, ব‍্যারাকপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ২৯ জন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারকে শনিবার থেকেই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে। সোমবার পর্যন্ত তাঁরা ওই দায়িত্বে থাকবেন।

error: Content is protected !!