বৈদিক ভিলেছে বঙ্গ বিজেপি-র প্রশিক্ষণ শিবিরে অনুপস্থিত তিন মন্ত্রী!

বৈদিক ভিলেছে বিজেপি-র প্রশিক্ষণ শিবির নিয়ে হঠাৎই উঠে এলে এক নতুন খবর। আর যে খবরে তোলপাড় পড়ে গেল রাজ্য় বিজেপির অন্দরে। যে প্রশিক্ষণ শিবিরে সকলের উপস্থিত থাকার কথা, সেখানেই অনুপস্থিত রইলেন বিজেপির তিন মন্ত্রী। অর্থাৎ বাংলার মোট চার সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আছেন, তার মধ্য়ে তিনজনই অনুপস্থিত রইলেন প্রশিক্ষণ শিবিরে। একমাত্র উপস্থিত ছিলেন ডক্টর সুভাষ সরকার। আর অনুপস্থিতির তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, জন বার্লা ও নিশীথ প্রামাণিক। বিজেপি সূত্রে খবর, এই অনুপস্থিতির জন্য় প্রশ্ন করা হতে পারে এই তিনজনকে। দলের নির্দেশ অমান্য় করে কেন এই অনুপস্থিতি তা জানতে চাওয়া হতে পারে এই তিন মন্ত্রীর কাছ থেকে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে পর্যবেক্ষক হিসেবে এরাজ্যের দায়িত্ব পাওয়ার পর বঙ্গ বিজেপি’র এই প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে শহরে এসেছেন সুনীল বনশল ৷ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য । বিজেপি’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধন্ডেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে । থাকবেন দলের রাজ্য নেতৃত্বও । জানা গিয়েছে, তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজ্য বিজেপি’র ৪২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিরাও উপস্থিত থাকবেন ৷ থাকবেন দলের সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদরাও । এছাড়াও দলের ৭টি মোর্চার প্রতিনিধিরাও যোগ দিচ্ছেন এই শিবিরে । সোমবার বেলা ১১ টা থেকে শুরু হয়েছে এই শিবির । আসন্ন নির্বাচনগুলিতে রাজ্যে বিজেপি’র ঘাঁটিগুলিকে আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হবে এই শিবিরে ৷ এছাড়াও আলোচনা হতে পারে ১৩ সেপ্টেম্বরের নবান্ন অভিযান ও তার রুটম্যাপ নিয়েও ৷ তিনদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে বুক করা হয়েছে বিলাসবহুল বৈদিক ভিলেজ রিসর্ট। সূত্রের খবর, বুক করা হয়েছে ১৫০ টি কটেজ। যার মধ্যে আছে কয়েকটি স্যুইট রুমও। আজ, সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরের খরচ প্রায় ২ কোটি টাকা। শিবিরে বৈভবের ছোঁয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই, রিসর্টে ভাড়া নিয়ে বঙ্গ বিজেপি’র এই প্রশিক্ষণ শিবিরকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল ৷ রিসর্ট রাজনীতি প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা আগেও হোটেলে এই ধরনের কর্মসূচি করেছি। হলদিয়াতে হোটেলে করেছি। বিশেষ কোনও প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ জায়গা দরকার হয়’। পাশাপাশি তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য,’ তৃণমূল কংগ্রেসের এই ধরনের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। ওরা সিন্ডিকেট আর কাটমানির জন্য প্রশিক্ষণ নেয়। ভারতীয় জনতা পার্টির একটা আদর্শ আছে’। এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, অত্যন্ত কম খরচেই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে ৷ পাশাপাশি, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সুকান্ত ৷

error: Content is protected !!