
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক বছরের জেল সিধুর
পুরনো একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এক বছরের কারাদণ্ড দিল নভজ্যোত সিং সিধুকে। এই রোড রেজ কেসটি ১৯৮৮ সালের। এর আগে এই মামলায় স্বস্তি পেয়েছিলেন নভজ্যোত সিং সিধু। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছে। এখন তার শুনানি করতে গিয়ে সিধুকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিধুর বিরুদ্ধে ৩৪ বছর আগে আইপিসির ৩২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এটি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বহন করতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, সম্ভবত সিধুকে হেফাজতে নেবে পাঞ্জাব পুলিশ। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে ২৭শে ডিসেম্বর-এর সন্ধ্যায়, সিধু তাঁর বন্ধু রুপিন্দর সিং সান্ধুর সঙ্গে পাতিয়ালার শেরাওয়ালে গেটের বাজারে ছিলেন। এই জায়গাটি তাঁর বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। সিধু তখন ক্রিকেটার। সেই সময়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু হয়েছিল মাত্র এক বছর আগে। একই বাজারে গাড়ি পার্কিং নিয়ে ৬৫ বছর বয়সী গুরনাম সিং-এর সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া শুরু হয়। বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। এরপর গুরনাম সিংকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। গুরনাম সিং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানা যায়। একই দিনে কোতোয়ালি থানায় সিধু ও তাঁর বন্ধু রুপিন্দরের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়রা আদালতে চলে। ১৯৯৯ সালে দায়রা আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। ২০০২ সালে পাঞ্জাব সরকার সিধুর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। এর মধ্যেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সিধু। ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে অমৃতসর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হন। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের রায় আসে। হাইকোর্ট সিধু ও সান্ধুকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। এই রায়ের পরেই লোকসভা থেকে ইস্তফা দেন সিধু। ২০০৬ সালে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। প্রয়াত বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি সিধুর পক্ষে মামলা লড়েছিলেন। হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ সালের ১৫ মে সুপ্রিম কোর্ট ৩২৩ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু অপরাধমূলক হত্যা (৩০৪) এর অধীনে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়নি। এতে জরিমানা পরিশোধ করে ছেড়ে দেওয়া হয় সিধুকে। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-তে সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ পিটিশনের শুনানি করতে সম্মত হয়। এদিন বৃহস্পতিবার আদালত রিভিউ পিটিশনের উপর নিজের সিদ্ধান্ত জানায়।

