
‘বিজেপি-র পাপের দায়িত্ব আমরা কেন নেব’ কেন্দ্রকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
আসানসোলের লোকসভা আসনে তৃণমূলের জয় নিয়ে আসানসোলবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি দীর্ঘ বক্তব্যের শুরুতেই অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা জানেন আসল চালাকিটা কী! চার মাসের ট্রেনিং দেবে। ট্রেনিং পাবে কারা, ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনও সাধারণ মানুষের চাকরি হবে না। ওদের লোকেরা পাবে, শাখা প্রশাখার লোকেরা। আর তার পর, চার বছর পর বলছে, তোমরা ঘুরে বেড়িয়ে কাজ জোগাড় করো। এ বার একটা মজা শুনবেন, আমার কাছে একটা চিঠি এসেছে। খেলাটা শুরু করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ওদের জন্য দেশে অগ্নিপথ নিয়ে আগুন জ্বলছে। আমি সেনা বা কর্নেলকে সন্মান করি, কিন্তু আমাকে একজন কর্নেল চিঠি লিখেছিলেন। তিনি লেখেন, যাঁরা চার বছর সেনায় কাজ করবে, তাঁদের ডেটা ব্যাঙ্ক আমাদের দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমরা যেন ওই চার বছরের পর তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করি।’’ গোটা দেশে এই প্রশ্নটাই সবথেকে বড় আকারে এসেছে অগ্নিপথ প্রকল্প ঘোষণা করার পর। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই চার বছরের চাকরির মেয়াদের পর এঁরা কোথায় যাবেন। আসানসোলের সভা থেকে সেই প্রশ্নও তোলেন মমতা। বলেন, রাজ্য সরকার কেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই কাজের দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু কেন, এই দায়িত্ব আমরা কেন নেব! বিজেপি-র পাপের দায়িত্ব আমরা কেন নেব। বিজেপির কর্মীকে কেন চাকরি দেব। আমাদের চাকরি দিতে আপত্তি নেই, কিন্তু চাকরি যদি আমাদের দিতে হয়, তা হলে আমরা রাজ্যের ছেলেমেয়েদের চাকরি দেব। ওঁরা চার বছরের জন্য নিয়ে, তার পর রাজ্যের উপর কেন ছেড়ে দিচ্ছে, মিথ্যে কেন বলছে? চার বছরের পর যদি চাকরিতে নিতে হয়, তা হলে আমরা স্থানীয়দের নেব, তাঁদেরই প্রাধান্য দেব। আমরা তো প্রাক্তন সেনাকর্মীদের চাকরিতে নি, তাঁরা তো চাকরি করছেন।’’ কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে মমতার মন্তব্য, ‘‘এটা আসলে অনেক বড় স্ক্যাম। চার বছরের চাকরির কোনও মানে হয় না, এই চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর পর্যন্ত হওয়া উচিত। না হলে চাকরি দেওয়ার নামে মিথ্যে খেলা খেলবেন না। ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি দিন ও তাঁদের পেনশনের ব্যবস্থা করুন।’’