
বীরভূমে তৃণমূল বুথ সভাপতিকে গুলি করে খুন, উত্তেজনায় জ্বলছে নানুর
বীরভূম আবার রক্তাক্ত। নানুরে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে পরপর গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই তৃণমূল নেতা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।মৃত নেতার পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে এই খুন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, কয়েকদিন ধরেই মৃতের ওপর হুমকি ছিল। এর আগে কয়েকবার অভিযোগ জানানো হলেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে।তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই হত্যাকাণ্ডকে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধীরা এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারির দাবিতে আজ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিলও হয়।অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি পাল্টা দাবি করেছে, এটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজের ফল। তাদের অভিযোগ, বীরভূমে শাসক দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে খোলসহ বেশ কিছু প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। খুনের পিছনে কারা আছে তা জানতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বীরভূমে কি ফের ফিরছে রাজনৈতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিন? সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চান, আর প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—আইনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল।


