
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা: “ডেডলাইনের চাপে নয়,” স্পষ্ট বার্তা পীযূষ গয়ালের
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা নতুন গতিতে এগোচ্ছে, আর সেই পর্বেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডেডলাইনের চাপের সামনে ভারত কখনও আলোচনায় বসে না। আমেরিকা যেভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চুক্তি করার কথা বলে চলেছে, ভারতের কাছে সেই শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়—এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে এসে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নানা ওঠানামার মুখে পড়েছে। আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপায়, আবার ভারতও কিছু পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। সেই টানাপোড়েন কাটিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে দুই দেশ নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরেছে।
এই পরিস্থিতিতেই গয়াল জানান, “We don’t negotiate under deadlines. সময় বেঁধে দিলে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ভারত আলোচনায় বসবে তার নিজের শর্তে, নিজস্ব গতিতে।” তাঁর মতে, বাণিজ্য আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হল পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং বাস্তবসম্মত চুক্তি তৈরি করা—সময়সীমা দিয়ে কাউকে চাপে রাখা নয়।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় ইতিমধ্যেই “good progress” হয়েছে। বিভিন্ন খাতে উভয় দেশই আগ্রহ দেখাচ্ছে—বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি, ওষুধ, পরিষেবা এবং ডিজিটাল ট্রেড নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। আমেরিকার অভিযোগ ছিল ভারত ‘tough negotiator’, কিন্তু ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য স্পষ্ট—দেশের বাজার, কৃষক, শিল্প ও স্টার্ট-আপ সেক্টরের স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলারের সমান। লক্ষ্য, আগামী পাঁচ বছরে সেটাকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্যেই দুই দেশ এখন আক্রমণাত্মকভাবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মত, ভারতের নতুন অবস্থান দেখিয়ে দিল—ওয়াশিংটনের চাপ থাকলেও দিল্লি আত্মবিশ্বাসী, এবং সমঝোতা হবে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে।
গয়াল বলেন, চুক্তি তখনই হবে যখন তা হবে “fair, balanced and sustainable।” এর মাধ্যমে পরিষ্কার যে ভারত কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই এগোতে চায়।
সব মিলিয়ে, এই বক্তব্য বাণিজ্য আলোচনায় ভারতের শক্ত অবস্থান তুলে ধরে। ডেডলাইনের শর্ত নয়, ভারতের বাস্তব প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থই ঠিক করবে চুক্তির গতি—এটাই এখন দিল্লির বার্তা।


