
মেসি ইভেন্ট কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্ত: আরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ গ্রহণ করলেন মমতা
কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লিওনেল মেসি সংক্রান্ত ইভেন্টে বিশৃঙ্খলার পর অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রী আরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, এমনটাই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা ও আলোচনা।মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে বিপুল ভিড়, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। বহু দর্শক টিকিট কেটেও প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।এই ঘটনার পর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের ভূমিকা নিয়ে। চাপ বাড়তে থাকায় আরূপ বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পেশ করেন। কয়েকদিন ধরে সেই পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সেই পদত্যাগ গ্রহণ করায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের বার্তা দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শাসক শিবিরের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজ্যের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট আয়োজনে আরও সতর্কতা নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।বিরোধী দলগুলি অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের চাপের ফল বলেই দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এত বড় মাপের ইভেন্টে সাধারণ দর্শকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে, যার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতেই হতো। তারা আরও কড়া তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।অন্যদিকে শাসক শিবিরের একাংশ মনে করছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রীড়া দফতরে নতুন দায়িত্ব বণ্টন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে, মেসি ইভেন্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন আর শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি প্রশাসনিক জবাবদিহি, রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে, পরবর্তী পদক্ষেপে রাজ্য সরকার কীভাবে এই সংকট সামাল দেয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেয়।


