মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নেমেছিল বিমান, দ্বিতীয় ডোপ টেস্টেও মারিজুয়ানা পজিটিভ এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এবার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ৪ আগস্ট ফুকেট-দিল্লি রুটের AI2379 বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের দ্বিতীয় তথা নিশ্চিতকরণ ডোপ টেস্টেও মারিজুয়ানা ব্যবহারের ফল পজিটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। এর আগে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর নমুনায় এমন একটি ফল পাওয়া গিয়েছিল, যার জন্য নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। এরপর নমুনা নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই পরীক্ষার ফল সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিমান নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৪ আগস্ট Airbus A320 বিমানে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল AI2379। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল টার্বুলেন্সের মধ্যে আচমকা বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৭ জন আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদেই দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর থেকেই বিমানের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার পর নিয়ম মেনে বিমানের দুই পাইলটেরই psychoactive substance screening করা হয়। পাইলট-ইন-কমান্ডের প্রাথমিক পরীক্ষায় এমন ফল পাওয়া যায়, যার জন্য confirmatory laboratory test প্রয়োজন ছিল। ৯ আগস্ট অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, পাইলটের নমুনা নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, সেই নিশ্চিতকরণ পরীক্ষাতেও মারিজুয়ানা ব্যবহারের ফল পজিটিভ এসেছে।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মীর প্রথমবার ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে তাঁকে de-addiction বা rehabilitation programme-এর আওতায় পাঠানো হয়। এরপর safety-sensitive দায়িত্বে ফেরার আগে তাঁকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই পরীক্ষায় নেগেটিভ হতে হয়। দ্বিতীয়বার ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে তিন বছরের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড হতে পারে। তৃতীয়বার পজিটিভ হলে লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে বর্তমান ঘটনায় তদন্ত ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দুই ক্রু সদস্যকেই ডিউটি রোস্টার থেকে সরিয়ে রেখেছে DGCA।
শুধু ডোপ টেস্টের ফল নয়, বিমানের আচমকা উচ্চতা হারানোর নেপথ্যে অন্য কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। DGCA ঘটনাটিকে ‘serious incident’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরপর Aircraft Accident Investigation Bureau বা AAIB আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। বিমানের Flight Data Recorder এবং Cockpit Voice Recorder ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।
তদন্তে বিমানের একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। সূত্রের দাবি, মাঝআকাশে autopilot disconnect হওয়ার পাশাপাশি hydraulic system-এ একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। autopilot বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর co-pilot manual control নেন। এরপর flight-control stall message দেখা যায় এবং কয়েকটি indicator switch সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও জানা গিয়েছে। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, টার্বুলেন্স, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং বিমানের আচমকা উচ্চতা হারানোর মধ্যে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না। Airbus এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা BEA-ও এই তদন্তে সহযোগিতা করবে।
এদিকে ঘটনার পর অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ার ইন্ডিয়ার CEO ক্যাম্পবেল উইলসনকে তলব করেছে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে আগে জানানো হয়েছিল, পাইলটের ডোপ টেস্টের ফল সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে এখন তদন্তের রিপোর্ট এবং পাইলটের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

error: Content is protected !!