
মুম্বইয়ের কুর্লায় ভয়াবহ ভূমিধস, মৃতের সংখ্যা বাড়ল! উদ্ধারকাজে BMC ও NDRF
প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই মুম্বইয়ের কুর্লা এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার, ১২ আগস্ট কুর্লায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে একাধিক বাড়ি ও বসতবাড়ির উপর মাটি চাপা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী NDRF। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।
ঘটনার পর থেকেই কুর্লার দুর্ঘটনাস্থলে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বিপজ্জনক অংশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘিরে রেখেছে প্রশাসন। ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি আরও নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছেন বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ধসের জেরে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটেছে। মৃতের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি সেখানে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেই লক্ষ্যেই কাজ চালাচ্ছে NDRF ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধসে পড়া মাটি ও আবর্জনা সরানো হচ্ছে।
মুম্বইয়ে বর্ষার সময় পাহাড়ি ঢাল ও ঢালু জমিতে ভূমিধস নতুন ঘটনা নয়। টানা বৃষ্টিতে মাটির নীচের অংশ দুর্বল হয়ে গেলে আচমকা বড়সড় ধস নামতে পারে। কুর্লার এই ঘটনায়ও প্রবল বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি পুর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধসের আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও বাড়ি বা রাস্তার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে সেখানে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধারকাজ যাতে নির্বিঘ্নে চালানো যায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এদিকে মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে জল জমা, রাস্তা বিপর্যস্ত হওয়া এবং যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই কুর্লার ভূমিধসের ঘটনা শহরের বর্ষাকালীন বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। মৃত ও আহতদের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার অভিযান এগোনোর পরই স্পষ্ট হবে।

