
গেরুয়া শিবিরে অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পেলেন বড় দায়িত্ব
অভিনয়ের জগতের পরিচিত মুখ মানসী সেনগুপ্ত এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন রাজনীতিতে। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন মানসী। অভিনেত্রীর দাবি, তিনি আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কোনওদিন মিটিং বা মিছিলে অংশ নেননি। অভিনেত্রী হিসেবে তৃণমূলের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই অতীতে তৃণমূল সরকার কী করেছে বা কোথায় ভুল হয়েছে, সেই বিতর্কে যেতে চান না মানসী। বরং আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জন্য কী করা যায়, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।মানসীর কাছে রাজনৈতিক জীবনের সূচনাটিও বিশেষ হয়ে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন, যেদিন তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয়, সেদিনই উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলছিল। ফলে দিনটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার মানুষের জন্য কাজ করার নতুন দায়িত্বও নিতে চান তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত মুখ মানসী সেনগুপ্ত। ‘নিম ফুলের মধু’, ‘কী করে বলব তোমায়’, ‘কুঞ্জছায়া’, ‘উমা’-সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান মানসী। খলনায়িকা থেকে পার্শ্বচরিত্র—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় তাঁকে দেখা গিয়েছে। এবার অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিজের জায়গা তৈরি করার পথে এগোলেন তিনি।মানসীর ব্যক্তিগত জীবনও এর আগে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। তিনি দুই সন্তানের মা এবং সন্তানদের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়ার মধ্যেই এবার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই যোগদান ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তিনি কীভাবে কাজ করেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। অভিনেত্রী হিসেবে যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও কতটা কাজে আসে, সেটাও ভবিষ্যতেই স্পষ্ট হবে। তবে মানসীর বক্তব্যে পরিষ্কার, আপাতত অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, মানুষের জন্য কাজ করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।

