
মেরামতির মাঝেই ফের ধস ফরাক্কায়, আজও বাতিল একাধিক ট্রেন, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
মেরামতির কাজ চলার মধ্যেই ফের রেললাইনে মাটি বসে যাওয়ায় বিপর্যস্ত ফরাক্কার রেল পরিষেবা। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে ফের ল্যান্ড সাবসিডেন্সের ঘটনায় আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর জেরে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। শুক্রবার রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ তিলডাঙা-নিউ ফরাক্কা সেকশনের আপ লাইনে মাটি বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ধসের জেরে ওভারহেড ইলেকট্রিক পোলও বেঁকে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ডাউন লাইনে অবশ্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।নতুন করে ধস নামায় শুক্রবারও উত্তরবঙ্গের একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল ট্রেনের তালিকায় রয়েছে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস, কলকাতা-বালুরঘাট তেভাগা এক্সপ্রেস, হাওড়া-মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-নিউ আলিপুরদুয়ার তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস, হাওড়া-মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, হাটেবাজারে এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল এবং হামসফর এক্সপ্রেস-সহ আরও কয়েকটি ট্রেন। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবারও নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধস নামার পর একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং ঘুরপথে চালানো হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করলেও ফের মাটি বসে যাওয়ায় সেই কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রেন বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে বহু যাত্রী বাসে উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা দিচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাসের টিকিটের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে ট্রেনের পাশাপাশি সড়কপথেও যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ এবং ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমান ভাড়াতেও বৃদ্ধির খবর মিলেছে। এর আগে প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের প্রায় ২০ ফুট অংশ বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। রাতের পেট্রোলিংয়ে থাকা রেলকর্মীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এরপর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতির কাজ চলছিল। লাগাতার বৃষ্টির ফলে মাটি নরম হয়ে যাওয়াকেই রেললাইনে বারবার মাটি বসে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মেরামতির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গমুখী ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

