
শিক্ষক দিবসে আবেগঘন বার্তা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর, বললেন ‘যাদের পড়িয়েছি, শিখেছি তাদের থেকেও’
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধে নিজের শিক্ষকতার দিনগুলির স্মৃতি তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি লিখেছেন, শিক্ষকরাই মানুষের ভাগ্য গড়ে দেন এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, মূল্যবোধ, দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে নতুন পথে এগিয়ে দিতে পারে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও এখনও তাঁকে অনুপ্রাণিত করে বলে জানিয়েছেন তিনি। দ্রৌপদী মুর্মু স্মরণ করেছেন ওড়িশার রাইরংপুরের শ্রীঅরবিন্দ ইন্টিগ্রাল স্কুলে শিক্ষকতার দিনগুলির কথা। সেখানে শিশুদের বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি গান, খেলাধুলা ও নাটকের প্রস্তুতিতেও তিনি যুক্ত থাকতেন। স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান, পড়ুয়াদের সঙ্গে পিকনিক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করানোর স্মৃতিও তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তাঁর জীবনে বহু জ্ঞানী ও স্নেহশীল শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সপ্তম শ্রেণি পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামের বাইরে পা রাখা প্রথম মেয়েটি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ভুবনেশ্বরে পড়াশোনার সময়ও শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালোবাসা ও উৎসাহ পেয়েছেন। তাঁর মতে, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে অসীম সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে পারেন। শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়েও নিজের নিবন্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর কথায়, শিক্ষকদের উচিত পড়ুয়াদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা, প্রত্যেকের সঙ্গে সমান ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা এবং ধৈর্যের সঙ্গে তাঁদের শেখানো। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের ‘আচার্য দেব ভব’ ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। দ্রৌপদী মুর্মুর মতে, ভালো শিক্ষক শুধু পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পড়ান না, নিজেদের আচরণ ও দৃষ্টান্তের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেন। তাঁদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো, প্রশ্ন করার প্রবণতা বাড়ানো এবং যুক্তিবোধকে শাণিত করা শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এমন শিক্ষার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে দক্ষ বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, শিল্পী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হতে পারেন। নিজের জীবনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের কথাও আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানিয়েছেন, স্কুল ছাড়ার বহু বছর পরেও তাঁর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। অনেকের নাম এবং ডাকনাম এখনও তাঁর মনে রয়েছে। শুধু তিনি তাঁদের পড়াননি, তাঁদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানিয়েছেন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও কৌতূহল থেকেও শিক্ষকদের শেখার রয়েছে বলে তাঁর মত। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নিজের গ্রামের বাড়িতে প্রায় ১১ বছর আগে একটি আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও জানিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং বাবা-মাকে হারানো শিশুরা পড়াশোনা করে। চলতি বছরের ২০ জুন নিজের জন্মদিনে সেই পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্কুলটি পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। নিবন্ধের শেষে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আশা, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের অবদানে ভারত জ্ঞানার্জনের পথে আরও এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

