
স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধের প্রস্তাব, গুজরাট মডেলের উদাহরণ দিলেন সুবেন্দু অধিকারী
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলপড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী। নিউটাউনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি গুজরাটের মডেলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পড়াশোনার পরিবেশে মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার যাতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট না করে, সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের জীবনে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। ফলে স্কুলের ভিতরে ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কিম’ চালুর ঘোষণা করেন এবং কলেজ শিক্ষকদের জন্য নতুন ট্রান্সফার নীতির কথাও জানান। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় দুটি করে ‘সিএম শ্রী’ স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। এই স্কুলগুলির কাঠামো অনেকটা কেন্দ্রের ‘পিএম শ্রী’ স্কুলের আদলে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মেধার ভিত্তিতে পড়ুয়া ভর্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার স্কুলে এখনও বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে এক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন এবং স্কুলগুলির নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কথা তিনি জানান। একইসঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার তুলনায় লিখিত পরীক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। শিক্ষার সঙ্গে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের বিষয়টিকেও যুক্ত করেন অধিকারী। শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন কিছু প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যা জাতীয়তাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সব মিলিয়ে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নতুন স্কুল, শিক্ষক নিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষায় দেশপ্রেমের গুরুত্ব—একাধিক বিষয়ে নিজের সরকারের পরিকল্পনা ও অবস্থান তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

