
মুকুন্দপুরের ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
শহর কলকাতায় ফের রহস্যমৃত্যু । এবার গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হল বৃদ্ধ দম্পতির দেহ। অভিযোগ, ছেলে ও বউমা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের অত্যাচার করতেন । তার জন্যই এই চরম পদক্ষেপ দম্পতির । যদিও এখনও এটা স্পষ্ট নয় যে, তাঁদের খুন করা হয়েছে নাকি তাঁরা নিজেরাই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার মুকুন্দপুরে । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম দুলাল পাল (৬৬) এবং রেখা পাল (৫৪) । ফ্ল্যাটের ডাইনিং রুমে পাওয়া যায় দুলালের দেহ । রেখার দেহ উদ্ধার হয় শোয়ার ঘর থেকে । আপাতভাবে মনে করা হচ্ছে, তাঁরা চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ তবে মৃত দম্পতির মেয়ের অভিযোগ, তাঁর দাদা ও বউদি মিলেই বাবা-মাকে খুন করেছেন । তাঁর দাবি, বাবা-মার উপর অত্যাচার চালাতেন দাদা-বউদি । অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেছেন, “গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হচ্ছে । পূর্ব যাদবপুর থানা ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে । পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করার কাজ চলছে, দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে । ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ৷” তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, মৃত দম্পতির ছেলের নাম সৌরভ পাল ও পুত্রবধূ কল্যাণী পাল । তাঁরা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে ওই মুকুন্দপুরের ফ্ল্যাটেই থাকতেন । যদিও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যখন দেহ দুটি উদ্ধার হয়, সে সময় ছেলে-বউমা বাড়িতে ছিলেন না । মঙ্গলবার রাতে ঘরে একাই ছিলেন ওই দম্পতি । ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে তালা বন্ধ ছিল দরজা ৷ পাড়া প্রতিবেশীরা এসে তাঁদের ডাকাডাকি করেন ৷ কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তাঁদের সাড়া শব্দ না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয় । শেষে পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে তাঁদের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে । স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দম্পতির ছেলে ও পুত্রবধূ দু’জনেই চাকরি করেন । ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে আসেন কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগের গোয়েন্দারা ।