
বারাসতে বাসের বেপরোয়া গতির খেসারত দিলেন ব্যবসায়ী, খোয়ালেন দুই পা
প্রাণে বাঁচলেও খোয়ালেন দুই পা। বাসের বেপরোয়া গতির খেসারাত দিতে হল এক ব্যবসায়ীকে ৷ বৃহস্পতিবার রাতে এমনই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতের হাটখোলা এলাকায় ৷ যান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা ৷ ঘটনার পরই ঘাতক বাসটি ফেলে চম্পট দেয় চালক এবং কন্ডাক্টর। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে । জানা গিয়েছে, ভবেশ দাস নামে বারাসতের এক ফল ব্যবসায়ী রাতে ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হাটখোলা থেকে চাঁপাডালি মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন দিক থেকে এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁকে। ওই বাসের চাকায় পা আটকে যায় ব্যবসায়ীর। সেই দৃশ্য দেখে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন পথচলতি সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাসটিকে কিছুটা দূরে দাঁড় করিয়ে চালক ও কন্ডাক্টর পালিয়ে যায় । বিষয়টি নিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন,”ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও কন্ডাক্টরের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করা যায়, দ্রুত তাদের নাগাল পাওয়া সম্ভব হবে ।” এর পরেই ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন এলাকার লোকজন। ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। খবর পেয়ে এমন সময় বারাসত থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। চলে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এমনকি কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদেরও বেশ কিছুক্ষণ ঘেরাও হয়ে থাকতে হয় উত্তেজিত জনতার হাতে। শেষে, পুলিশের বিশাল বাহিনী এসে পরিস্থিতির সামাল দেয়। ক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে শান্ত করার পরই ঘেরাও মুক্ত করা সম্ভব হয় ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের। এদিকে,ঘাতক বাসের চাকার নীচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজে। রাতেই সেখানে তাঁর দু’পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে ৷ যদিও অস্ত্রোপচারে তাঁর দুই পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। এই বিষয়ে বিকাশ পাত্র নামে আহত ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয় বলেন,”ভবেশবাবু ফল বিক্রি করেন। রাস্তার পাশ দিয়ে উনি হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই ঘটে এই দুর্ঘটনা। পিছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বেসরকারি বাস ধাক্কা মারে তাঁকে। বাসের চাকার নীচে তাঁর পা আটকে গিয়েছিল। দুটি পা-ই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যশোর রোডে যান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের লাগাম থাকলে আজ এত বড় ক্ষতি হত না। আমরা এর বিচার চাই।”