
চিংড়িহাটা মেট্রো জট শেষের পথে, বৈঠকের দিন ঠিক করল হাই কোর্ট
চিংড়িহাটা মেট্রো রুট নিয়ে দীর্ঘদিনের জট অবশেষে কাটানোর পথে। বহু টানাপোড়েন, বারবার আলোচনা স্থগিত হওয়া এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট।চিংড়িহাটা ৩৬৬ মিটার ‘গ্যাপ’ পূরণে বিলম্ব নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত জানিয়ে দিয়েছে—সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করতেই হবে, এবং সেই বৈঠকের নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণও ঠিক করে দিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৈঠক হবে বুধবার বিকেল ৫টায় মেট্রো রেল ভবনে। সেখানে হাজির থাকতে হবে রাজ্য সরকার, মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)–সহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে। রাজ্যের তরফে এই বৈঠকে যোগ দেবেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত।গত কয়েক মাস ধরে চিংড়িহাটা ঘিরে মেট্রো প্রকল্পের কাজে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট করিডরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সংযোগস্থল। এখানকার ট্রাফিক চাপ, রাস্তা ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা এবং জরুরি পরিষেবার সমস্যা উল্লেখ করে একাধিকবার কাজ স্থগিত হয়েছে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এ ধরনের অজুহাতে জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কখনও থমকে থাকতে পারে না। প্রয়োজনে বিকল্প ট্রাফিক পরিকল্পনা করতে হবে, কিন্তু কাজ বন্ধ রাখার মানে শহরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ানো।আগামী শুক্রবারের মধ্যে বৈঠকে কারা কারা রাজ্যের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকবেন, সেই নামের তালিকাও আদালতে জমা দিতে হবে। এরপর ১৯ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে, যেখানে বৈঠকের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন বিচারপতিরা। যদি দেখা যায় যে আবারও দেরি হচ্ছে বা কোনও পক্ষ দায়িত্ব এড়াচ্ছে, সেক্ষেত্রে আদালত আরও কঠোর নির্দেশ দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।ইতিমধ্যেই নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হলেও চিংড়িহাটা এই ‘গ্যাপ’ পূরণ না হওয়ায় পুরো করিডরটি খুলে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন এয়ারপোর্টমুখী হাজারো যাত্রী সমস্যায় পড়ছেন, তেমনই এই প্রকল্প শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বস্তিতে আনতে পারছে না। তাই আদালতের এই জরুরি বৈঠককে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।


