
প্রাণ গেছে ২১জনের, অবশেষে গ্রেপ্তার গুজরাতের বনসকাঁঠায় লাইসেন্সহীন বাজি কারখানার মালিক
মঙ্গলবার গুজরাতের বনসকাঁঠায় বেআইনি বাজি কারখানার গুদামের বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের। মৃতদের মধ্যে ৭ জন শিশু। জানা গিয়েছে, তাঁদের সকলেরই দেহ এমন ভাবে ঝলসে গিয়েছিল যে চেনা দায়! এই ঘটনায় কারখানার যৌথ মালিক খুপচাঁদ রেনুমাল মোহনানি ও তাঁর ছেলে দীপক খুপচাঁদ মোহনানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুজরাত সরকারের মুখপাত্র ও মন্ত্রী রুশিকেশ প্যাটেল জানিয়েছেন, বাজি রাখার অনুমতি ছিল না ওই গুদামে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভদোদরা সার্কলের জয়েন্ট চিফ কন্ট্রোলার অফ এক্সপ্লোসিভস পি সানিরাজও। বনসকাঁঠার পুলিশ সুপার অক্ষয়রাজ মাকওয়ানা বলেন, ‘ওই গুদামের বাজি রাখা এবং বিক্রির লাইসেন্স গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গিয়েছিল। তা রি–নিউ করার আবেদন করেছিলেন মালিক। আমাদের টিম গিয়ে জায়গাটি খতিয়ে দেখে। কিন্তু সেখানে সঠিক ভেন্টিলেশন এবং আগুন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না।’ লাইসেন্স রি–নিউ না হওয়ার পরও গুদামের কাজকর্ম জারি ছিল। জানা গিয়েছে, সেখানে বাজি রাখার অনুমতি থাকলেও বাজি তৈরির অনুমতি ছিল না। কারখানার মালিক বাবা–ছেলেকে গ্রেপ্তারের পরে দিসা রুরাল থানায় দায়ের হয়েছে এফআইআর। অভিযোগ, গুদামে বেআইনি ভাবে বিপুল পরিমাণ বাজি রাখা, আগুন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা না–রাখা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা। এই ঘটনার পরে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন গুজরাটের ডিজিপি বিকাশ সহায়। সেই দলের নেতৃত্বে থাকছেন ডেপুটি সুপার সিএল সোলাঙ্কি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ এই বিস্ফোরণ হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি গিরীশ কোটাক ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যেই থাকেন। জানিয়েছেন, তাঁর মনে হয়েছিল যেন কোনও বিমান ক্র্যাশ করেছে বা কিছু আকাশ থেকে খসে পড়েছে। বলেন, ‘দেওয়াল কেঁপে উঠল বলে মনে হয়েছিল। কাছের রাস্তা থেকে ধুলো আর ধোঁয়া উড়তে দেখি।’ পুড়ে যাওয়া দেহগুলির মধ্যে ১৯ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করার জন্য চলছে ডিএনএ পরীক্ষাও।