
রামনবমীর মিছিল নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
রামনবমীর মিছিলের অনুমতি দেওয়া নিয়ে মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল হাওড়া সিটি পুলিশকে ৷ আদালতের মতে, গত বছর যে পথে শোভাযাত্রা হয়েছিল, সেই পথে যদি এবার অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ব্যর্থতা হিসেবে ধরতে হবে ৷ আগামী রবিবার, 6 এপ্রিল রামনবমী ৷ সেদিন শোভাযাত্রা বের করার অনুমতি চেয়ে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে ৷ শুক্রবার ওই মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে ৷ সেখানে রামনবমী উপলক্ষে হাওড়ায় অঞ্জনি পুত্র সেনা ও বিশ্বহিন্দু পরিষদকে দু’টি আলাদা আলাদা শোভাযাত্রা করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । তবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কিছু শর্তও আরোপ করেছেন । বিচারপতি নির্দেশে জানিয়েছেন, শোভাযাত্রা হতে হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ । কোনও লাঠি, অস্ত্র, নেওয়া যাবে না । পতাকা নেওয়া যাবে৷ গদা প্লাস্টিকের (পিভিসি) নেওয়া যাবে। পুলিশকে শোভাযাত্রার সামনে ও পেছনে নজরদারি গাড়ি রাখতে হবে । আদালতের আরও নির্দেশ, অঞ্জনি পুত্র সেনার শোভাযাত্রা শুরুর সময় হতে হবে সকালে সাড়ে 8টা ৷ বেলা 12টার মধ্যে শেষ করতে হবে ওই শোভাযাত্রা । বিশ্বহিন্দু পরিষদকে শোভাযাত্রার জন্য সময় হতে হবে বিকেল 3টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৷ এই দুই শোভাযাত্রা অংশ নিতে যাওয়া ৫০০ জনকে নিজেদের আধার কার্ড, প্যান কার্ডের জেরক্স হাওড়া পুলিশের সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে । পুলিশকে আগামী বুধবার রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে । এছাড়া আদালত মামলার রুটও বেঁধে দিয়েছে ৷ অঞ্জনি পুত্র সেনার মিছিল নরসিংহ মন্দির থেকে শুরু হবে ৷ তার পর জিটি রোড হয়ে হাওড়া ময়দানে শেষ হবে ৷ অন্যদিকে বিশ্বহিন্দু পরিষদের মিছিল শিবপুর বিই কলেজের এক নম্বর গেট থেকে শুরু হয়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাট ভায়া মল্লিক ফটক । এদিনের শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, এই ধরনের নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনের শোভাযাত্রায় পুলিশ রুট ঠিক করে দিতে পারে ৷ এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় উল্লেখ করেন তিনি । সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হয় । বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, ‘‘এর আগে বেশ কয়েকটা শোভাযাত্রার অনুমতি দিয়েছি ৷ সবক্ষেত্রেই আগের রুটগুলোতে শোভাযাত্রা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । হাওড়াতেও যদি আগের বছরের রাস্তাতেই অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে জানতে হবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ । এবং সংগঠকরা নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে লোক শোভাযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ ।’’