
ভারত বাংলাদেশিদের জন্য চালু করছে বিজনেস ভিসা — নতুন উদ্যোক্তা বাণিজ্যের পথ প্রসারিত
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বহু বছর ধরেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত, জনসংযোগ এবং অর্থনীতির পরস্পর নির্ভরশীলতা দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবার সেই সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভারত সরকার একটি নতুন পদক্ষেপের পথে হাঁটছে — চালু হতে চলেছে নতুন ধরনের বিজনেস ভিসা, যা বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসায়িক যাতায়াতকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুরক্ষিত করবে।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ভিসা পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধা পাবেন, যাতে বারবার ভিসা আবেদন করার ঝামেলা কমে যায়। এখন পর্যন্ত বিজনেস ভিসার অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়, নথিপত্র এবং সিকিউরিটি ভেরিফিকেশনে অনেক সমস্যা দেখা যেত। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিনিধিরা বহুবার সীমান্ত পারাপার করতে চাইলে জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতো।নতুন নীতিতে সেই প্রক্রিয়া সহজ হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা, দ্রুত অনুমোদন এবং কম কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী ফেডারেশন, চেম্বার অফ কমার্স এবং সরকারি বাণিজ্য দফতর যৌথভাবে ভেরিফিকেশন করবে, যাতে সময় বাঁচে এবং ব্যবসায়ীদের দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ভিসা ব্যবস্থার ফলে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রযুক্তি, নির্মাণ শিল্প, কৃষি, আমদানি-রপ্তানি, স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগ খাতে গতি আসবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং ভারতের প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত ব্যবসায়িক সহযোগিতা থেকে বড় উপকার পেতে পারে।উভয় দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে ভারত এবং বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই এই ধরনের উদ্যোগ সীমান্ত বাণিজ্যকে আরও সক্রিয় করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়াবে।আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই নতুন বিজনেস ভিসা পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ী মহলে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে “গেম চেঞ্জার” হিসেবে দেখা হচ্ছে।


