
পূর্বস্থলীতে স্ত্রী বন্ধুর সঙ্গে পালাতেই আত্মঘাতী স্বামী! চাঁদপুর গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনা
পূর্বস্থলীর চাঁদপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনার কারণে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চিরঞ্জিত দেবনাথের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁরই বাড়ি থেকে, আর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রাথমিক সূত্র মতে, কয়েকদিন আগে চিরঞ্জিতের স্ত্রী হঠাৎই বাড়ি ছেড়ে এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চিরঞ্জিত। পরিবার সূত্রের দাবি, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি চরম বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং স্বভাবগত আচরণেও পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ, বন্ধু ও স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহে ছিলেন, আর স্ত্রী হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় সেই সন্দেহ আরও প্রবল হয়। ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন তিনি ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। দ্রুত তাঁকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, আত্মহত্যার পিছনে মানসিক যন্ত্রণা ও দাম্পত্য টানাপোড়েনই মূল কারণ হতে পারে। তবে স্ত্রী কোথায় এবং কার সঙ্গে আছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য নিচ্ছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গ্রামজুড়ে এই ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ—বিশেষত বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশীদের মতে, চিরঞ্জিত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কখনও ভাবতেও পারেননি তিনি এ রকম সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিবারের দাবি, যদি স্ত্রী ফিরে আসতেন বা অন্তত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তবে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। চিরঞ্জিতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা আবারও তুলে ধরল সম্পর্কের সংকট, মানসিক চাপ এবং একাকিত্বের গভীর প্রভাব—যা কোনো মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে মুহূর্তে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পরিস্থিতিতে মানসিক সমর্থন ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ না করা পর্যন্ত আত্মহত্যার সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে স্ত্রী ও বন্ধুর অন্তর্ধান এই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, চাঁদপুর গ্রামে এই ঘটনার পর থেকেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং উঠে এসেছে দাম্পত্য সম্পর্কে বিশ্বাসঘাতকতা ও মানসিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ বাস্তবতা।


