
‘যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাশে আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব, সুপ্রিম নির্দেশ মতো ৩ মাসের মধ্যে প্রসেস করে দেব’, বললেন মুখ্যমন্ত্রী
সুপ্রিমকোর্টের রায়ে ২৫,৭৫২ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। শীর্ষ আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান রয়েছে। কিন্তু এই রায় মানতে পারছি না। শীর্ষ আদালতের রায় মেনে তিন মাসে নতুন নিয়োগ শেষ করার কথাও জানিয়েছেন মমতা। সুপ্রিম নির্দেশের পরই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে নবান্নে তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় বিস্তারিত পড়েছি। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। চাকরিহারাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাশে আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব।” সুপ্রিম রায়ে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল। শীর্য আদালত রায় দিয়ে জানিয়েছে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কলঙ্কিত এবং সমাধানের বাইরে। চাকরি বাতিলের পরে তড়িঘড়ি শিক্ষা দফতরকে নিয়ে বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, মুখ্যসচিবরা সেই বৈঠকে হাজির থাকবেন। দুপুর দুটোয় সেই বৈঠক হওয়ার কথা আছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমি বিচারপতিকে সম্মান জানিয়েই বলছি। নাগরিক হিসেবে আমি এই রায় মেনে নিতে পারছি না। আমি মানবিক ভাবে এটা বলছি। কেউ মিস ইনফর্ম করবেন না। এক জন দোষীর জন্য সবাইকে কী ভাবে এক জায়গায় যুক্ত করা হল? একজন প্রধান বিচারপতির থেকে কি আমরা এটুকু মানবিকতা আশা করতে পারি না? একটা আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া কি যেত না?” প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বলেন, তিন মাসের মধ্যে প্রসেস করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আমরা করে দেব। তিনমাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে বলেছি যে আমাদের মতটা যেন স্কুল সার্ভিস কমিশনে জানানো হয়। ওরা স্বশাসিত সংস্থা। তিনি আরও বলেন, আমি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বলতে চাই, যখন বিপদের মুখে সবাই চলে যান। জাজমেন্ট যেমন বিরুদ্ধে গিয়েছে, সেরকম দুটো পথও দিয়েছে। জাজমেন্ট মেনেই সেটা করব।’ মমতা বলেন, আমি শুনেছি যে শিক্ষক-শিক্ষিকরা আপসেট। ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছেন অনেকে। কোনও একটা টনা যদি ঘটে, তার জন্য দায়ি থাকবে কে? মানবিকতার স্বার্থে পরিবারগুলির পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।’