
মেসি ইভেন্টে চরম বিশৃঙ্খলা: পদত্যাগ পেশ করলেন ক্রীড়া মন্ত্রী আরূপ বিশ্বাস
কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির ইভেন্ট ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার পর রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোড়ন। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রী আরূপ বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এই মেগা ইভেন্টে মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভিড় জমান। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ উঠতেই পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। অনেক দর্শকের অভিযোগ, টিকিট কেটে প্রবেশ করেও তাঁরা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি, ফলে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় স্টেডিয়ামের ভিতরে ও বাইরে বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে। কোথাও বোতল ছোড়া, কোথাও চেয়ার ভাঙচুর—সব মিলিয়ে মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদনের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় ভিআইপি ও বিশেষ পাস ইস্যু হওয়াতেই ভিড় নিয়ন্ত্রণে বড়সড় ব্যর্থতা ঘটে।
এই ঘটনার পরই প্রশাসনিক মহলে দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক্রীড়া দফতরের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। সেই চাপের মধ্যেই আরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ পেশ করেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
এদিকে রাজনৈতিক ময়দানে বিষয়টি নিয়ে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এমন আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট আয়োজনের আগে যথাযথ পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, এই বিশৃঙ্খলা রাজ্যের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
অন্যদিকে শাসক শিবিরের একাংশ মনে করছে, বিপুল জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল এবং তা সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব ছিল না। তবু দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ প্রস্তাব রাজনীতিতে নজির সৃষ্টি করেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সব মিলিয়ে মেসি ইভেন্ট এখন শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহি, জননিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন কি না, এবং এর প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা গভীর হয়।


