
শিলিগুড়িতে নাবালিকাকে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রেমিক সহ ২
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিলিগুড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ৷ খুনের অভিযোগ নাবালিকার প্রেমিক ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে । ঘটনায় প্রেমিক সহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ অভিযোগ, মঙ্গলবার খুনের পর অভিযুক্তরাই নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় । ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালে সারারাত অভিযুক্তদের আটকে রেখে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় মৃতার পরিবার ও এলাকাবাসীরা । ভাঙচুর চালানো হয় একটি গাড়িতে । পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী । পুলিশি নিরাপত্তায় অভিযুক্তদের হাসপাতাল থেকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় । এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, “ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে । দু’জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে । ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই নাবালিকার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে । সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।” পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক রয়েছে । আরও এক অভিযুক্ত মৃত নাবালিকার প্রেমিক রোহিত রায় । তার বাড়ি তিনবাত্তি ওভার ব্রিজ এলাকায় । জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকার বয়স ১৪ বছর । সে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা । পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ বান্ধবীদের সঙ্গে বিরিয়ানি খাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে তিনবাত্তি মোড়ে যায় নাবালিকা । বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মেয়ে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন । শুরু হয় মেয়ের খোঁজ । এরপর হঠাৎ সেই নাবালিকার প্রেমিক পরিবারকে ফোন করে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা জানায় । পরে অভিযুক্ত দু’জনই গাড়ি করে প্রথমে নাবালিকাকে বাড়িতে নিয়ে যায় । পরে তাকে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । এরপর পুলিশ এসে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায় ।মৃত নাবালিকার পরিবারের দাবি, তার প্রেমিক রোহিত দেহটি উত্তরকন্যার পার্শ্ববর্তী এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে । এতে তাদের সন্দেহ, রোহিতই নাবালিকাকে খুন করেছে । রাতে অভিযুক্ত দু’জনকে হাসপাতালের ফাঁড়িতে পুলিশ আটক করে রাখলে এলাকাবাসী ও মৃতার পরিজনরা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে । তাদের মারধর করতেও উদ্যত হয় বিক্ষুব্ধ জনতা । ক্ষোভে একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় তারা । মাঝরাতেই মৃতার পরিবার খুনের অভিযোগ দায়ের করে । ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতার মা ও পিসি বলেন, “দুপুরে কাউকে ফোন করে বের হয় । বলেছিল তিনবাত্তি যাচ্ছে । এরপর রোহিতকে একাধিকবার ফোন করি । তাকে ফোনে না-পেয়ে তার বন্ধুকেও ফোন করা হয় । রোহিতের বন্ধুই জানায়, মেয়ে কথা বলতে পারছে না । এরপর ওরাই মেয়েকে গাড়ি করে নিয়ে আসে । তারপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা । আমাদের প্রশ্ন হল ওরা কীভাবে মেয়েকে খুঁজে পেল ?” মেয়ের কাকিমা সঙ্গীতা সরকার বলেন, “ওরা দু’জনেই গাড়ি করে নিয়ে আসে বাড়ির সামনে । ওরাই এই কাজ করেছে । ওদের ফাঁসি চাই ।”