তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

এদিনের সভা থেকে মমতা ছত্রে ছত্রে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে, কেন্দ্রীয় সরকারকে, মোদি-শাহকে। তাঁরা আক্রমণের অভিমুখ থেকে বাদ যায়নি অধিকারী পরিবারও। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে আক্রমণাত্মক মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে বাম-কংগ্রেস-বিজেপিকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল নেত্রী। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে গোরুপাচার, কয়লাপাচার কাণ্ড। সিবিআই, ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, পার্থ চট্টোপাধ্যায় । এ নিয়েও সোমবার মঞ্চ থেকে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষ করলে আইনে বিচার হবে, কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের আমলে কত ছেলে-মেয়ে শিক্ষকের চাকরি পেয়েছে। আর সিপিএম, কত ছেলে-মেয়ে তোমাদের আমলে চাকরি পেয়েছে? লিস্ট কোথায়? পয়সা নিয়েছ আর চাকরি দিয়েছ। ওই গদ্দার অধিকারীরাই আমাকে রোজ বলত। তাই সিস্টেমটা ওরাই ভালো জানে। আজকে তৃণমূলকে বলছে চোর। আমি যদি আজ রাজনীতি না করতাম। আর এই চেয়ারে না থাকতাম। তাহলে বোনেদের বলতাম যাঁরা মিথ্যে রটাচ্ছে, তাঁদের জিভ টেনে খুলে দিতে। একটা দলের নামে বদনাম করা হচ্ছে। এখনও বিচার হয়নি। প্রমাণ হয়নি।” একই সঙ্গে পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল সরকারের এগারো বছরের শাসনে এ রাজ্যে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪টি মেডিক্যাল কলেজ, ৫১ নতুন কলেজ, ১৭৬ পলিটেকনিক কলেজ, ৭ হাজার নতুন স্কুল হয়েছে। ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৭০ জনকে চাকরি দিয়েছে সরকার। এখনও খালি রয়েছে ৮৯ হাজার ৩৫টি পদ। বাংলায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সবকিছুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা, বিপুল সোনা এবং সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করেছে ইডি। গোরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকেও বিপুল টাকা ও সম্পত্তি মিলেছে। সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও, ইডি-সিবিআই-এর বিররুদ্ধে এদিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইডি আর সিবিআই দিয়ে লোকের বাড়ি থেকে টাকা লুট করা হচ্ছে।” এদিনের সভা থেকে সব থেকে আকর্ষণ হয়ে ওঠে নেত্রীর নিজে মুখে বলা সম্পত্তির খতিয়ান। এদিন মমতা বলেন, ‘পার্থ-কেষ্ট চোর কি না, তা আইন বলবে। কিন্তু এসব কী চলছে? ববি চোর, অভিষেক চোর, মমতা চোর? সব কিছুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে টানা! আর বিজেপির সবাই সাধু? আমাকে আজ একজন বলল আমার নামেও নাকি একটা মামলা দায়ের হয়েছে আজকেই। আমার পরিবারের সম্পত্তি নাকি খুব বেড়ে গিয়েছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, আমার কত সম্পত্তি? ওগুলো কি আমার সম্পত্তি? আমরা ছয় ভাই-বোন। মা যতদিন বেঁচে ছিলেন আমার কাছে থাকতেন। আমরা সবাই আলাদা আলাদা পরিবার। মায়ের দায়িত্ব ছিল আমার। প্রজাদারি জমিতে থাকি আমরা। ৭০ বছর ধরে বাবা থাকতেন। ঠিকা শর্তে রানি রাসমণির জমিতে থাকি আমরা। আমি আর আমার মা থাকতাম। বাকি ভাই বোনেরা সব নিজেদের আলাদা সংসার আলাদা বাড়ি। বাকিদের সঙ্গে কেবলমাত্র উৎসবের সম্পর্ক রয়েছে। সকলের পরবর্তী প্রজন্ম হয়েছে, তারা উপার্জন করেছে। আমার তো সব ডকুমেন্ট দেওয়াই আছে। আমি বলি কী, এই মামলাটা ইন্টারন্যাশনাল আদালতে হোক।’ এরপরেই মমতা বলেন, ‘১২ বছর ধরে ১ লাখ টাকা করে পেনশন হয়। নিই নি। প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পেতাম। এক টাকাও নিই নি। বাইরে গেলে চাও নিজের পয়সায় খাই। সরকারি গাড়ি চড়াও হয় না। ১৯৯১ সালের পর থেকে কোনওদিন এগজিকিউটিভ ক্লাসে চড়িনি। আমি কেন বই বিক্রি করব সেটাও তাঁদের জ্বালা। বাজারে সার্ভে করে দেখুক বইমেলায় বেস্ট সেলার কার বই। বই কেন বিক্রি করি, তা নিয়ে প্রশ্ন। বুকফেয়ারে খোঁজ নিয়ে দেখুন, কোন বই বেস্টসেলার। লিখে দেখান না ১০০০ কবিতা।’

error: Content is protected !!