
পঞ্চমবিংশ নাট্যমেলা শুরু: নাটকের শহরে সাংস্কৃতিক ঢেউ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হল পঞ্চমবিংশ নাট্যমেলা ২০২৫। ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই নাট্যমেলা এবছর আরও বেশি সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক প্রেক্ষাগৃহ এবং মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন নাট্যাভিনয়, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং আলোচনা সভা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্র সদনে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, পরিচালক, শিল্পী এবং সংস্কৃতি জগতের গণ্যমান্য মানুষ। এদিন সন্ধ্যা ৫টায় শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দলীয় নাট্যপ্রদর্শনী।
নাট্যমেলার মূল আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে গ্রুপ থিয়েটার, লোকনাট্য, আধুনিক নাটক, শিশু নাট্য ও পরীক্ষামূলক নাট্যের বিশেষ প্রদর্শনী। পাশাপাশি থাকছে নাটকের ইতিহাস, ভবিষ্যত, এবং নাট্যচর্চার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনাসভা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ মেলা সত্যিই এক সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র।
১১ ডিসেম্বর বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে “অসাম্প্রদায়িকতা”, যেখানে সমাজ, মানবিকতা এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নাট্যচর্চার ভূমিকা তুলে ধরা হবে। এছাড়া ৯, ১০, ১২ এবং ১৪ ডিসেম্বর থাকছে বিশেষ নাট্য কর্মশালা, যা নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নাট্যমেলা শুধু অভিনয় বা প্রদর্শনী নয়, এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সৃষ্টিশীলতা এবং মানুষের মনের অনুভূতির মিলন উৎসব। এই মেলা প্রমাণ করে যে বাংলা নাট্যচর্চার ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, ভবিষ্যতও ঠিক ততটাই উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময়।
আজকের ব্যস্ত সময়ে নাটক শুধু বিনোদন নয়, সমাজকে চিনতে, অনুভব করতে এবং ভাবতে শেখায়। তাই এই নাট্যমেলা রাজ্যের শিল্প-সংস্কৃতির ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন নাট্যপ্রেমীরা।


