রাতে থানায় তোলা যুবক, সকালে রেললাইনের ধারে দেহ উদ্ধার — বলাগড়ে বিক্ষোভে উত্তেজনা

হুগলির বলাগড়ে এক যুবকের রহস্যময় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার সকালেই বলাগড় স্টেশনের নিকটে রেললাইনের ধারে ওই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃতের পরিবার অভিযোগ তোলে—গত রাতেই বলাগড় থানার পুলিশ যুবকটিকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরদিন সকালে তাঁর দেহ রেললাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরিবারের দাবি, যুবকটি বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর জামাইকে ফোন করে বা মেসেজে জানিয়েছিল যে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে আর তার যোগাযোগ হয়নি। রাতে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার সকাল পর্যন্ত খোঁজখবর চালায়। সেই অবস্থায় আচমকা রেললাইনের ধারে দেহ মেলে—যা দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও গভীর হয়। তাঁদের অভিযোগ, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং অস্বাভাবিক মৃত্যু, এবং এর নেপথ্যে পুলিশি গাফিলতি বা দুর্ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই অভিযোগ ঘিরে বলাগড় থানায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উত্তেজিত জনতা থানার সামনে ভাঙচুর চালায়, সিসি ক্যামেরা ও চাইল্ড-ফ্রেন্ডলি কর্নারের মতো বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী নষ্ট করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা দীর্ঘক্ষণ থানা অবরোধ করে রাখে। এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে পরিস্থিতি আর না বাড়ে।

অন্যদিকে, পুলিশের দাবি—যুবককে রাতে মদ্যপ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য থানায় আনা হয়েছিল এবং পরে বেল বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কোথায় গিয়েছিলেন বা কীভাবে মৃত্যু হল, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য—“তদন্ত না করলে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।” ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

পুরো ঘটনাকে ঘিরে বলাগড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা। স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের শাস্তি ও সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

error: Content is protected !!