গোলকবরে হঠাৎ সন্ত্রাসের ছায়া — Red Fort-এর গেট বন্ধ তিন দিন

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা ঘিরে হঠাৎই তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ। টানা তিন দিন ধরে স্মৃতিস্তম্ভের প্রধান গেট বন্ধ থাকায় পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা— সকলের মধ্যেই প্রশ্ন, ঠিক কী ঘটল যে দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী স্থানের প্রবেশপথ হঠাৎ সিল করে দিল প্রশাসন? সূত্রের দাবি, গোলকবরে (Red Fort চত্বরের একটি সংরক্ষিত পরিসর) সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পরই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে। যদিও সরকারি ভাবে বিষয়টি ‘রুটিন সিকিউরিটি আপগ্রেড’ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নিরাপত্তা মহলে কিন্তু সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

পর্যটন দপ্তর প্রথমে জানিয়েছিল, গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে সংস্কার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে। কিন্তু দ্রুতই দেখা যায়, সাধারণ সংস্কারের জন্য যেমন ধরনের কর্মী চলাচল থাকে, তেমন কিছুই নেই। বরং উল্টো— পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি প্যারামিলিটারি বাহিনী, স্থাপন করা হয়েছে নতুন ব্যারিকেড। লালকেল্লার আশপাশে নজরদারি ড্রোনের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর এই হঠাৎ সিদ্ধান্তেই সন্দেহ আরও গাঢ় হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাতের দিকে গোলকবরের একটি কম ব্যবহৃত প্রাচীন অংশে অচেনা কয়েকজন মানুষকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রথমে চৌকিদারদের চোখে পড়লেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজেও নাকি কিছু ‘অস্বাভাবিক গতিবিধি’ ধরা পড়েছে। যদিও ফুটেজগুলি এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি, প্রশাসন জানাচ্ছে— বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লালকেল্লা বহুবারই দেশবিরোধী শক্তির টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ফলে কোনও সন্দেহ দেখা দিলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি, পার্শ্ববর্তী দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা এবং উৎসবের মরসুম— সব মিলিয়েই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে নারাজ।

এদিকে তিন দিনের জন্য গেট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে পর্যটকরা। বহু মানুষ আগেই টিকিট ও গাইড বুক করেছিলেন। তাদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি সত্যিই কোনও নিরাপত্তা সমস্যা থাকে, তা হলে যথাসময়ে জানানো উচিত ছিল।

তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তদন্ত সম্পন্ন হলে ও নিরাপত্তা সংস্থার অনুমতি মিললে স্বাভাবিক ভাবেই গেট আবার খুলে দেওয়া হবে।

এই মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে লালকেল্লা— ঠিক কী ঘটেছিল তিন দিন আগে গোলকবরের ভেতরে? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই রহস্যই এখন ঘনীভূত হয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভটিকে ঘিরে।

error: Content is protected !!