নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে কে এই রহস্যময়ী নারী ? 

কালীঘাটের কাকুর পর এবার কুন্তলের মুখে রহস্যময়ী নারী। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে বেরনোর সময় রহস্যময়ী নারীর কথা জানিয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষ। কুন্তলের বক্তব্য, নিয়োগ দুর্নীতির সবটা জানতেন ওই রহস্যময়ী নারী। তিনি নিয়েছেন টাকাও! পাশাপাশি আলিপুর আদালত থেকে জেলের যাওয়ার পথে সময় নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে রহস্যময়ী নারীর নামও উন্মোচন করেছেন তিনি। কুন্তল ঘোষ জানিয়েছেন, রহস্যময়ী নারীর নাম হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। কুন্তলের আরও দাবি, ‘সব জানেন গোপাল দলপতির স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। যা টাকা আছে সব গোপাল দলপতি ও তাঁর স্ত্রীর কাছে। তদন্ত ঘোরানোর জন্য অন্য কথা বলে লাভ নেই।’ রহস্যময়ী নারী হচ্ছেন গোপাল দলপতির স্ত্রী। তবে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের মা-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মেয়ে হৈমন্তী বহুবছর আগে গোপালের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিল। গোপালকে আমাদের পরিবার পছন্দ করে না তাই কোনও যোগাযোগ রাখি না। তবে আমার মেয়ে নির্দোষ, ওকে ফাঁসানো হচ্ছে।   অবশ্য হৈমন্তীর মা অস্বীকার করলেও প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, এই বাড়িতে হৈমন্তী আসতেন। বিলাসবহুল গাড়িতে আসতেন। অনেকবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু সূত্রে খবর, গোপাল দলপতির লিভ ইন পার্টনারহৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। হৈমন্তী পেশায় মডেল। তবে গোপাল ২০১৮ গ্রেফতারের পর থেকে আলাদা থাকেন। আগে টালিগঞ্জ এলাকায় থাকতেন। গোপালের আগে একটি বিয়ে ছিল সেই স্ত্রীকে ছেড়ে হৈমন্তীর প্রেমে পড়ে লিভ ইন শুরু করেন, যদিও কুন্তলের দাবি, গোপালের স্ত্রী হৈমন্তী। এই হৈমন্তী একটি কোম্পানি রয়েছে । গোপালেরও একটি কোম্পানি রয়েছে। গোপাল ও হৈমন্তী দু’জন এখন আলাদা থাকেন। মুম্বাইতে হৈমন্তীর কোম্পানিতে গোপাল বিপুল পরিমান টাকা ট্রান্সফার করেছিল। এমনকী গোপালের বিপুল পরিমান জমি ও হৈমন্তীর কোম্পানির নামে। ফলে কুন্তল যে বার বার অভিযোগ করছে এজেন্ট মারফত কোটি কোটি টাকা কুন্তলের থেকে গোপাল দলপতি মুম্বাইতে নিজের স্ত্রী কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টয়ে টাকা ট্রান্সফার করেছিল বলে অভিযোগ।  কুন্তল যে বার বার অভিযোগ করছে এজেন্ট মারফত কোটি কোটি টাকা কুন্তলের থেকে গোপাল দলপতি মুম্বাইয়ে নিজের স্ত্রী কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেছিল বলে অভিযোগ। এ বার কুন্তল বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে ৯ মার্চ পর্যন্ত জেল হেফাজতের পরে বেরানোর সময় কোর্ট লক আপ থেকে চিৎকার করে বলেন হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়র, আরমান গঙ্গোপাধ্যায়র। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় কারা টাকা নিয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর দেন। বেশিরভাগ জমি গোপালের স্ত্রী এবং স্ত্রীয়ের কোম্পানির নামে। এত জমি কেনার টাকা কোথা থেকে পেল গোপাল? সিবিআই গোপালকে  প্রশ্ন করেছিল। উত্তরে অসঙ্গতি। আরও কিছু জমি বিক্রিও করেছে। সেই টাকা কোথায় গেল? তা হলে কী কুন্তলের অভিযোগ অনুসারে, গোপাল দলপতির কাছে নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা গিয়েছে। সেই টাকা মুম্বাইয়ে গোপাল দলপতির স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।

error: Content is protected !!