
সুপ্রিমকোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার, হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল শীর্ষ আদালত, চাকরি হারাচ্ছেন ২৫ হাজার ৭৫২
রাজ্য সরকারের বড় ধাক্কা খেল সুপ্রিমকোর্টে। কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ তাদের রায়ে বলেছে যে এটি এমন একটি মামলা যেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি কলঙ্কিত এবং বড় আকারের কারচুপি হয়েছে। এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি এবং সরকার-অনুমোদিত স্কুলগুলির ২৫,৭৫২ জন শিক্ষকের চাকরি অবৈধ হয়ে গেল। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তার রায়ে বলেছে যে, হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও বৈধ কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং যাঁদের চাকরি বাতিল হবে, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে যাঁরা ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরাও যোগ্যতা প্রমানের জন্যে আবেদন করতে পারবেন। রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত আপাতত সকলে বেতন পাবেন। বিস্তারিত রায়ে দিনের শেষে সুপ্রিম কোর্টের পোর্টালে আপলোড করা হবে। গত বছর ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬-র এসএসসি প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল করার রায় দেয়। ওএমআর শিট টেম্পারিং এবং র্যাঙ্ক-জাম্পিংয়ের মতো অনিয়মের কথা উল্লেখ করে, হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় যাঁরা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি অবৈধ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং শীর্ষ আদালত সেই আবেদনের সঙ্গে ১২০টিরও বেশি আবেদনের শুনানি একসঙ্গে করে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায় সংরক্ষণ করে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, যাঁরা “ভুল ভাবে” চাকরি পেয়েছেন তাদের “বরখাস্ত” করা হতে পারে। শীর্ষ আদালত গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত শুনানি শুরু করে এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই মামলার রায় সংরক্ষণের আগে ১৫, ২৭ এবং ১০ ফেব্রুয়ারি সব পক্ষের বক্তব্য শোনে। গত বছর মে মাসে শীর্ষ আদালত রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগের ক্ষেত্রে নেওয়া হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে, সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই-কে এই বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ২০১৬ সালের এসএসসি পরিচালিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২৪,৬৪০ টি পদের জন্য ২৩ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন এবং মোট ২৫,৭৫২ জনের নিয়োগপত্র জারি করা হয়েছিল।