
ইউক্রেনকে সমস্ত সামরিক সহায়তা ‘বন্ধ’ করল আমেরিকা
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপে সমস্ত সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্তার সূত্র উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ওই কর্তার কথায়, প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর মনোযোগ শান্তি স্থাপনের উপর৷ বাকিদেরও সেই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে সমাধানের চেষ্টায় আপাতত এই সাহায্য স্থগিত রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও সাহায্য কতটা কমানো হবে তা স্পষ্ট নয়, তবে ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তায় যে কোনও পরিবর্তন সে দেশের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এখনই পাকাপাকি ভাবে ইউক্রেনকে সাহায্য করা বন্ধ করছে না আমেরিকা ৷ তবে এটিকে সামরিক সাহায্যের ক্ষেত্রে একটি বিরতি বলা যেতে পারে। যদিও মার্কিন সাহায্য স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এর আগে, জেলেনস্কি বলেছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে না যে এই যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে। এই বিষয়ে ট্রাম্প জেলেনস্কির মনোভাবের নিন্দা করেন। সম্প্রতি হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের মধ্যে খনিজ চুক্তি হয় যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনীয় সম্পদে প্রবেশাধিকার দেবে ৷ দুই রাষ্ট্রের মধ্যে এই খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর করার ঠিক কয়েকদিন পরেই সামনে এল ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ৷ চুক্তির আগে উভয় পক্ষই (আমেরিকা-ইউক্রেন) আশা করেছিল যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে। তবে, শুক্রবারের বৈঠকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে যখন ট্রাম্প-জেলেনস্কি নজিরবিহীন ভাবে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।