
প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এল শোকের ছায়া
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি, এবং অবশেষে তাঁর জীবনযাত্রার শেষ অধ্যায় সম্পূর্ণ হলো চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর চলে যাওয়া শুধু তাঁর পরিবার, সহকর্মী বা পরিচিতদের জন্য নয়— গোটা বাংলা চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বহুমুখী। বাংলা সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা অনেক মূল চরিত্রাভিনেতাকেও ছাপিয়ে গেছে। তাঁর সংলাপ বলার ধরণ, মুখভঙ্গি এবং স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। কমেডি, সিরিয়াস বা চরিত্রাভিনয়ের মতো বহুমাত্রিক ভূমিকা তিনি সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। পরিচালকরা প্রায়ই বলতেন— “কল্যাণবাবুর অভিনয়ে দৃশ্য কখনও ফাঁকা থাকে না।”শুধু বড়পর্দাই নয়, টেলিভিশনেও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাংলা ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় ও উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ছিল আলাদা আকর্ষণ। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও নিজের চরিত্রকে স্মরণীয় করে তুলতেন। প্রজন্ম বদলেছে, পরিচালক বদলেছে, চলচ্চিত্র জগত বদলেছে— কিন্তু কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের প্রতি সম্মান ও চাহিদা কখনও কমেনি।তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। বহু সহ-অভিনেতা, পরিচালক ও শিল্পী সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনেকেই জানিয়েছেন, তিনি শুধু দক্ষ অভিনেতাই নন— অত্যন্ত সরল, হাসিখুশি ও স্নেহশীল মানুষ ছিলেন। শ্যুটিং ফ্লোর তাঁর উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠত, আর নতুন অভিনেতাদের উৎসাহ দিতেন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে।তাঁকে হারানো বাংলা শিল্প মাধ্যমের কাছে এক যুগের সমাপ্তি। তিনি ছিলেন সেই শিল্পী, যিনি কখনও নিজেকে বড় করে দেখাননি কিন্তু দর্শকের মন, ভালোবাসা এবং সম্মানে সবসময় উচ্চস্থানে থেকেছেন। কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় আর নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, সংলাপ, হাসি এবং পর্দাজুড়ে তাঁর উপস্থিতি— বাংলা সিনেমাকে আরও অনেক বছর মনে করিয়ে দেবে, তিনি সত্যিই ছিলেন একজন শিল্পী, যাঁকে ভোলার নয়। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন সকলেই।


