
লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও গভীর রাতে পাশ ওয়াকফ সংশোধনী বিল
লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ ওয়াকফ সংশোধনী বিল। ম্যারাথন চর্চার পর ভোটাভুটিতে পাশ হয় এই বিল। বিলের পক্ষে পড়ল ১২৮টি ভোট । বিপক্ষে পড়ল ৯৫টি ভোট। এর আগে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে চর্চার সময় কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যসভার দলনেতা তথা বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। কংগ্রেস আমলে মুসলমান সম্প্রদায়ের মহিলাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছিল। এমনই দাবি নাড্ডার। তুরস্ক থেকে শুরু করে সিরিয়া এবং বাংলাদেশের মতো মুসলিম প্রধান দেশে দীর্ঘদিন আগেই তিন তালাক প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছিল। কিন্তু ভারতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার তেমন কিছুই করেনি। আর তাই ঘোর অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটাতে হত মুসলিম সম্প্রাদায়ের মহিলাদের। একথা বলে নাড্ডার দাবি, মুসলমান সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য কখনও কংগ্রেস ভাবেনি। তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বিজেপি। ভাষণে ওয়াকফ বিল কেন প্রয়োজন, তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন মোদি মন্ত্রিসভার এই সদস্য। তিনি বলেন, “এই বিলের একমাত্র লক্ষ্য ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আসা।” অন্য একটি প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি দাবি করেন, ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হলে দেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে। কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্য বিরোধী দলগুলিও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে মিথ্যা কথা বলছে বলে নাড্ডা মনে করেন। এদিকে, ভোটাভুটির আগে ওয়াকফ চর্চায় অংশ নেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি জানান, ওয়াকফ সংশোধনী বিল এনে সমাজে সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি ৷ তাঁর আবেদেন, সমাজে শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করা উচিত নয়। কংগ্রেস সভাপতি মনে করেন, এই বিলটি অসাংবিধানিক ৷ শুধু তাই নয়, ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থও রক্ষা করতে পারবে না। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি এই বিলে বেশ কিছু ভুল আছে। আর তাই সরকারের উচিত এই বিল প্রত্যাহার করে নেওয়া।” অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন বিজেপির আমলে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তার মধ্যে ৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা খরচ হয়নি।