‘বাংলাদেশের মাটিতে হবে না কোনও ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ড’, নরেন্দ্র মোদিকে আশ্বাস ইউনূসের

ঢাকা: চিন্ময় প্রভুর মুক্তির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মাটিতে ভারতবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড যাতে না হয় সেবিষয়টিও দেখবেন তিনি। ব্যাংককে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দুটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে হোটেলের লবিতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য প্রথমবারের মতো ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদী। ঢাকার অনুরোধেই এই সাক্ষাতে তিনি রাজি হয়েছিলেন। ভারতের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, সম্পর্কের উন্নয়নে বাংলাদেশকেই দায়িত্ব নিতে হবে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অতি সক্রিয়তায় দিল্লি যে খুশি নয়, সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মোদির সাক্ষাতের জন্য ইউনূস একা এলেও মোদি তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়েই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজয় ডোভালও। ইউনূস আসার পরে যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তিনি সরাসরি বাংলাদেশে চলমান ভারতবিরোধী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়েও খোঁজখবর নেয় ভারত। জানা গিয়েছে, ভারতীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশ্নবাণে জর্জরিত ইউনূস অনেক সময়ই নীরব ছিলেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের। তাঁর কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, সেভেন সিস্টার্স সম্পর্কে ড. ইউনূসের বক্তব্য সরকারি, নাকি ব্যক্তিগত। জবাবে ইউনূস নিজের বক্তব্য ব্যক্তিগত বলেই ভারতকে আশ্বস্ত করেন। গণমাধ্যমে প্রচার যাইহোক না কেন, জানা গিয়েছে, সাক্ষাৎকালে কোনো পক্ষই আওয়ামি লিগ বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয় উত্থাপন করেননি। তবে ট্রাম্পের শাসনাকালে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মোদিকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

error: Content is protected !!