একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তর ভারত, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪৫

একটানা প্রবল বৃষ্টির জেরে বিধ্বস্ত উত্তর ভারত। সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার। ভারী বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন একাধিক অঞ্চল। ফুঁসছে বহু নদী। সঙ্গে রয়েছে ধস ও হড়পা বান। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে উত্তর ভারতে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৪৫ ছাড়িয়েছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। ১৮ জুলাই অর্থাৎ মঙ্গলবার পর্যন্ত হিমাচলের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। এদিকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাঞ্জাবে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে আশঙ্কা। পাতিয়ালা, লুধিয়ানা, জলন্ধর, ফতেগড় সাহিব সহ বেশকিছু জেলায় প্লাবিত ধানজমি।  প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। লাগাতার বৃষ্টির জেরে প্লাবিত বহু অঞ্চল। পাশাপাশি হড়পা বান ও ধসের জেরে বন্ধ বহু রাস্তা। এখনও পর্যন্ত আটকে থাকা প্রায় ৬০ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে পুলিস ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। বর্তমানে আরও দুর্গম জায়গায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য পুলিসের ডিজি সতবন্ত আতওয়াল বলেন, ‘ধস ও বন্যার জেরে বহু দুর্গম জায়গায় আটকে পড়েছেন মানুষ। তাঁদের উদ্ধারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।’ সরকারি সূত্রে খবর, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে হিমাচলে বন্ধ প্রায় ৭৯০টি রাস্তা। ব্যাহত জল সরবরাহ ও বিদ্যুৎ পরিষেবা। ধস ও হড়পা বানের জেরে আটকে পড়লেও নিজেদের গাড়ি ছাড়া বাইরে যেতে রাজি নন কাসোল, মণিকরণ ও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী এলাকার পর্যটকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ ঘোষণা করেন হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। তিনি জানান, যে পর্যটকদের কাছে গাড়ি রয়েছে, তাঁদের এক বিশেষ ধরনের পাস দেবে পুলিস। রাস্তা ঠিক হওয়ার পর সেই পাসের সাহায্যেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন তাঁরা। এদিকে কাসোল-ভুন্তার রোডে অবস্থিত দুনখারার কাছে ভূমিধস নামায় আটকে পড়ে বহু গাড়ি। এই পরিস্থিতিতে ট্রেক করে রাস্তা পারাপার করতে বাধ্য হন পর্যটকরা। 
হিমাচলের মতোই দুর্যোগে বিধ্বস্ত পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। এখনও পর্যন্ত পাঞ্জাবের বন্যাকবলিত জেলাগুলি থেকে ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। হরিয়ানার জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে ৩ হাজার ৬৭৪ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পাঞ্জাবের ১৪টি ও হরিয়ানার ১০টি জেলা। দুর্যোগের জেরে এখনও পর্যন্ত এই  দুই রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন। জলমগ্ন এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে জলবাহিত রোগের আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই লুধিয়ানার একাধিক কলোনিতে ঢুকে পড়েছে বুদ্ধ নালার দূষিত জল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাম্পের সাহায্য নিয়েছে পুরসভা। দুর্যোগ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। বন্যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হরিয়ানার ৮৫৪টি গ্রাম। পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে ১২৬টি বাড়ি। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ১২টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮১৯ জন।

error: Content is protected !!