পাঁচ দশক পর আবার মেদিনীপুরের হাতে বাংলার মসনদ! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। Suvendu Adhikari রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। আর এর সঙ্গে প্রায় পাঁচ দশক পর ফের মেদিনীপুরের এক নেতা বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন।শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন—এই ঘোষণা হতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। নন্দীগ্রাম থেকে কাঁথি, শান্তিকুঞ্জ—বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আবির খেলায় মেতে ওঠেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেদিনীপুর জেলার দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থানের প্রতীক। ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চল থেকেই তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠিত হয়েছিল। বিপ্লবী দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ও মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই মাটিরই সন্তান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার মানুষ অভিযোগ করতেন যে কলকাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতিতে জেলাগুলি উপেক্ষিত থেকেছে। শুভেন্দু নিজেও অতীতে একাধিকবার এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। এবার সেই জেলারই এক নেতা রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসতে চলেছেন।ইতিহাস বলছে, শেষবার মেদিনীপুর জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজয় মুখার্জি। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ৫০ বছর। এবার সেই ইতিহাস নতুনভাবে ফিরল শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে।নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা দেন।সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্ত শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়—বরং জেলার রাজনীতির শক্তি ফের সামনে আসারও প্রতীক।

error: Content is protected !!