দার্জিলিংয়ে ভয়াবহ ধস, জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে উধাও রাস্তার একাংশ, ব্যাহত যান চলাচল

টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ের আবহাওয়ায় সামান্য উন্নতি হলেও বিপদ কাটছে না। বরং দার্জিলিংয়ের একাধিক এলাকায় নতুন করে শুরু হয়েছে প্রবল ভূমিধস। সোমবার সকালে জোরবাংলো থেকে পেশক হয়ে তিস্তা বাজার যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কের জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে বড়সড় ধস নামে। ধসের জেরে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে। ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে যান চলাচল, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।
সকালে আচমকা ধস নামায় ওই রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত থমকে যায়। আটকে পড়ে বহু যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পূর্ত দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। উদ্ধারকারী দলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড় দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত ওই রাস্তায় একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা নিয়ন্ত্রিতভাবে আটকে থাকা গাড়িগুলিকে পার করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশক রোডের জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছেই এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এই রাস্তা দার্জিলিং, কালিম্পং এবং গ্যাংটকের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে রাস্তার একটি অংশ ধসে পড়ায় পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়েছে। রাস্তা পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এর মধ্যেই পাহাড়ের বাসিন্দাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও এসেছে। প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার সকাল থেকে হালকা যানবাহনের জন্য ‘২০তম মাইল’ এলাকা খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বারদাং ও সিংটাম-সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা বিপর্যস্ত থাকায় বারদাং, সিংটাম, রংপো ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
তবে পাহাড়ে ফের বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। রাস্তা খুলে দেওয়া হলেও তা কতদিন নির্বিঘ্নে যান চলাচলের উপযোগী থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং ধসপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
পাঞ্চলাইন: পাহাড়ে বৃষ্টি থামলেও বিপদ কাটেনি! জোরবাংলোয় ধসে উধাও রাস্তার বড় অংশ, একমুখী যান চলাচলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা।

error: Content is protected !!