
ডুরান্ড কাপের খেতাবি ডার্বি! ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, ট্রফির লড়াইয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে মুখোমুখি কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। রবিবার ২৩ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা ডার্বির এই খেতাবি লড়াই। ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৫টায়।
দুই দলের কাছেই এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি ফাইনাল নয়, বরং মর্যাদা, ঐতিহ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াই। ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে দুই দলই বহুবার সাফল্য পেয়েছে। বর্তমানে মোহনবাগানের দখলে ১৭টি ডুরান্ড কাপ ট্রফি, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল এখনও পর্যন্ত ১৬ বার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে। ফলে রবিবারের ফাইনালে ট্রফি জিতলে মোহনবাগান তাদের ১৮তম খেতাব নিশ্চিত করবে, আর ইস্টবেঙ্গল সমতায় পৌঁছনোর সুযোগ পাবে।
চলতি প্রতিযোগিতার শুরুতেই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেই ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল। ফলে ফাইনালকে বদলার ম্যাচ হিসেবেও দেখছে লাল-হলুদ শিবির। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, দল কখনও হারার জন্য মাঠে নামে না এবং ফাইনালে শুরুতে পাওয়া হারের জবাব দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা নামবে।
ফাইনালে ওঠার পথ অবশ্য দুই দলের জন্যই সহজ ছিল না। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়েও এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লাল-হলুদ। গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভও সেই ম্যাচে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে মোহনবাগানও সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করতে পারেনি। বৃষ্টিভেজা কঠিন ম্যাচের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় সবুজ-মেরুন। গোলরক্ষক বিশাল কাইথের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি সেভ দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা নেয়।
ফাইনালের আগে দুই শিবিরেই তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। মোহনবাগানের হয়ে চলতি ডুরান্ডে সাহাল আবদুল সামাদ এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করেছেন। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলদাতা পিভি বিষ্ণু ফাইনালে খেলতে পারবেন না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুই দলের একাধিক তারকার পারফরম্যান্সই বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
মোহনবাগান শিবিরে আবার সূচি ও বিশ্রামের সময় নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। সেমিফাইনালের পর দীর্ঘ সফর করে কলকাতায় ফিরে মাত্র একদিনের প্রস্তুতিতে ফাইনালে নামতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোচ প্যানোস। তবে শারীরিক ক্লান্তির তুলনায় দলের মানসিক শক্তি ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে ফাইনাল ঘিরে রেফারিং নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল পর্বে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল শিবির মাঠের খেলাতেই নজর রাখার বার্তা দিয়েছে। ফলে মাঠের বাইরের উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের লড়াইও যে যথেষ্ট জমজমাট হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
সব মিলিয়ে ২৩ আগস্টের ডুরান্ড কাপ ফাইনাল কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে চলেছে মরসুমের অন্যতম বড় আকর্ষণ। একদিকে ১৮তম ডুরান্ড কাপ জয়ের হাতছানি মোহনবাগানের সামনে, অন্যদিকে ১৭তম খেতাব জিতে সমতায় ফেরার সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের। যুবভারতীর মঞ্চে শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর মিলবে ডার্বির ৯০ মিনিট কিংবা প্রয়োজনে টাইব্রেকারে।

