ডুরান্ডের বদলা শিল্ডে, ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

কলকাতা ডার্বির মঞ্চে ফের জয়ের হাসি সবুজ-মেরুনের। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই জয়ের ফলে ২২তম বার আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। ৪৫ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদের চিপ করা বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে দেন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মিডফিল্ডার সমির জেলকোভিচ। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা, কিন্তু তাঁর শট আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। পালটা আক্রমণে মোহনবাগানও একাধিকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। লি এরউইন ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের শট থেকে সুযোগ তৈরি হলেও ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা দলকে বাঁচান। ৩৬ মিনিটে ছাংতের দূরপাল্লার জোরালো শট এবং তার পরের মিনিটে সাহালের প্রচেষ্টা আটকে দেন লাচেনপা। তবে বিরতির ঠিক আগে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য একাধিকবার আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু মোহনবাগানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক বিশাল কাইথের দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি লাল-হলুদ। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। এই জয় মোহনবাগানের কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চলতি মরশুমের ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে তারা ১-৪ গোলে হেরেছিল। সেই হারের পর আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডার্বি জিতে ট্রফি তুলে নিল সবুজ-মেরুন। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ইউনাইটেডকে সেমিফাইনালে ৭-২ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ফাইনালে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফলে ফাইনালের ফল লাল-হলুদের জন্য হতাশার হলেও, মরশুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফের একবার কলকাতা ডার্বি হয়ে উঠল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র।

error: Content is protected !!