
ককপিটে ভয়াবহ হামলায় খুলি ভেঙে মস্তিষ্কে ঢুকে গিয়েছিল হাড়, জরুরি অস্ত্রোপচার ভারতীয় পাইলটের
ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আরও গুরুতর তথ্য সামনে এল। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইট FZ1073-এ ককপিটের ভিতরে সহ-পাইলটের হামলার সময় গুরুতরভাবে আহত হন স্মিত। জানা গিয়েছে, হামলায় তাঁর মাথার খুলির একটি অংশ ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে গিয়ে মস্তিষ্কের কাছে পৌঁছে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের চোটকে ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ বলা হয়। সূত্রের খবর, সৌদি আরবের তাবুকের হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মাথার খুলি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে তাঁকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুরুতর মাথার চোটের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর। ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের আগে ককপিটে সহ-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারী সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি, সহ-পাইলট ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে স্মিতকে আক্রমণ করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী এবং বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে পাইলটকে সহ-পাইলটের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিক থেকে তদন্তের কথা জানান। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। গুরুতর আহত হওয়ার পরও যাত্রীদের জীবন রক্ষায় তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে সাহসী পাইলট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে আবু ধাবিতে চিকিৎসাধীন স্মিতের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থার খবর জানানো হচ্ছে।

