সেনার শক্তি বাড়াতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে অনুমোদন, নজরে ড্রোন ও এয়ার ডিফেন্স

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা DAC)। সোমবার, ২৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতীয় স্থলসেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ (AoN) দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। স্থলসেনার জন্য উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যান, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম, হালকা বহুমুখী হেলিকপ্টার, অতি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার মানববিহীন আকাশযান, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দীর্ঘপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। দুর্গম এলাকায় সেনার যাতায়াত, রসদ পরিবহণ ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বচালিত কামান ব্যবস্থা যান্ত্রিক সেনাদলের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, অতি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছোট ও নতুন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় কাজে লাগবে। নৌসেনার জন্য সক্রিয় অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম-সহ একাধিক নৌ প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ডিকয় সিস্টেমটি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে। বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রাডার কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষ ধরনের ইউটিলিটি হেলিকপ্টার বায়ুসেনার পরিবহণের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে। আর নতুন রাডার সামনের সারির এলাকায় আরও নির্ভুল ও স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য দিতে পারবে। তবে এই অনুমোদন চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয়। AoN হল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় একটি প্রাথমিক ধাপ; এরপর প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন, দরপত্র ও অন্যান্য সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে তিন বাহিনীর নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা, গতিশীলতা এবং আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।

error: Content is protected !!