ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই ১১ বছরের পবনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ তদন্ত কমিটিকে

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ১১ বছরের এক নাবালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার, ২৬ অক্টোবর কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত শিশুটির নাম পবন যাদব। সে হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা এবং চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। পেটে ব্যথা নিয়ে রবিবার সকালে তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন পরপর ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই পবনের মৃত্যু হয়। তাঁদের দাবি, শিশুটিকে তিনটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, যদিও চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশের সঙ্গে মৃতের পরিজনদের সংঘর্ষ হয়। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন শিশুরোগ বিভাগের অধ্যাপক রাকেশ মণ্ডল। কমিটির অন্য সদস্যেরা হলেন শিশুশল্য বিভাগের প্রধান সুজয় মৈত্র, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরান আহমেদ এবং মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সঞ্জয় মণ্ডল। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, পেটের ব্যথা কমাতে প্রথমে ডর্টিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। পরে প্যান্টোপ্রাজল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও ওষুধ আনতে দেরি হওয়ায় তার বিকল্প হিসেবে র‌্যানটাক আইএম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই শিশুটি শকে চলে যায় এবং পরে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। তবে চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কোন পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের ফল সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

error: Content is protected !!