ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান থাকলেও আইএসএলে দর্শক টানতে হিমশিম! কলকাতাকে টেক্কা দিচ্ছে কোচি-গোয়া?

ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কলকাতা। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মতো ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাবের সমর্থকগোষ্ঠীও দেশের ফুটবল মানচিত্রে বিশেষ পরিচিত। তবু চলতি মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ম্যাচ ঘিরে কলকাতার দর্শকদের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া নতুন মরশুমের প্রথম সপ্তাহে ইউটিউবে ম্যাচের দর্শকসংখ্যার নিরিখে কলকাতার দলগুলিকে পিছনে ফেলেছে কয়েকটি অন্য শহর। কোচিতে কেরালা ব্লাস্টার্স ও মুম্বই সিটি এফসির ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামের প্রায় ৪২ হাজার আসন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ইউটিউবের ভিউয়ের তালিকাতেও কেরালা ব্লাস্টার্সের ম্যাচগুলি উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছে। ইন্টার কাশী ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে কেরালার ম্যাচ দু’টি অন্তত আট লক্ষ দর্শক দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের একটি ম্যাচ বেশি ভিউ পেলেও সবুজ-মেরুনের অন্য ম্যাচটি একই রকম দর্শক টানতে পারেনি। গত মরশুমের আইএসএল সম্প্রচার নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেওয়ার পর এবার প্রতিযোগিতাকে আরও সহজলভ্য করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেশন ও ক্লাবগুলির যৌথ ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া লিগের সব ম্যাচ ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই দেশের পাশাপাশি বিদেশের দর্শকেরাও ম্যাচ দেখতে পারছেন। কিন্তু বিনামূল্যে সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশামতো বাড়ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাঠে দর্শক উপস্থিতির ছবিও একই প্রশ্ন তুলছে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএসএলের ম্যাচে গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সব ম্যাচে গ্যালারি পূর্ণ হচ্ছে না। তবে এই পরিসংখ্যান থেকেই কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা সামগ্রিকভাবে আইএসএল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। ম্যাচের সময়, টিকিটের দাম, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, সম্প্রচারের ধারাবাহিকতা এবং দর্শকসংখ্যা মাপার পদ্ধতিও আগ্রহের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কলকাতা ডার্বির মতো বড় ম্যাচে এখনও বিপুল আবেগ ও সমর্থন দেখা যায়। তাই প্রশ্ন উঠছে, ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাবের উপস্থিতি সত্ত্বেও নিয়মিত লিগের ম্যাচে দর্শক টানতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন? আইএসএলের নতুন মরশুম এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের উপস্থিতি ও অনলাইন ভিউয়ের পরিসংখ্যানই এই প্রশ্নের আরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারে।

error: Content is protected !!