
দুর্গাপুজোয় বড় পুজোকে অনুদান নয়, ছোট পুজোগুলিকে ₹১ লক্ষ করে দেবে সরকার: বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে রাজ্যের সব দুর্গাপুজো কমিটিকে সমানভাবে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না। যেসব ছোট পুজো কমিটির কাছে সরকারি আর্থিক সাহায্য অত্যন্ত প্রয়োজন, তাদের পাশে দাঁড়াবে সরকার এবং ₹১ লক্ষ করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব বড় ও বিগ-বাজেটের পুজো কমিটির নিজস্ব অর্থের জোগান রয়েছে এবং সরকারি সাহায্য ছাড়াই বড় পরিসরে পুজোর আয়োজন করতে পারে, তাদের অনুদানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এতদিন রাজ্যের প্রায় সমস্ত পুলিশ-অনুমোদিত পুজো কমিটিই সরকারি অনুদান পেত। ২০২৫ সালে প্রতিটি কমিটিকে ₹১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালে মাত্র ₹১০ হাজার টাকা দিয়ে এই অনুদান ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলিতে ধাপে ধাপে অনুদানের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে গত বছর তা ₹১ লক্ষ ১০ হাজারে পৌঁছয়। এবার সেই সর্বজনীন অনুদান ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন আনছে শুভেন্দু সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যেসব পুজো কমিটির কাছে সরকারি অর্থ না পেলেও পুজো আয়োজন করতে কোনও সমস্যা হবে না, তাদের সরকারি টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেই অর্থ এমন পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া উচিত, যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন করা কঠিন। ফলে এবার সরকারি অনুদানের মূল লক্ষ্য হবে ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল পুজো কমিটিগুলি। সরকারের এই সিদ্ধান্তে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তবে ছোট পুজো কমিটিগুলির কাছে এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির খবর। কারণ বহু পাড়ার পুজোর মোট বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশই সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন ছোট পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সাহায্য পেলে তাঁরা পুজোর আয়োজন আরও ভালোভাবে করতে পারবেন। তবে অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে ঠিক কী কী মাপকাঠি থাকবে, সেই বিষয়ে সরকারের বিস্তারিত নীতি আলাদাভাবে জানানো হবে। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে রাস্তার উপর পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের কর এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। ফলে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একদিকে বড় বাজেটের পুজোগুলিকে নিজেদের অর্থ ও স্পনসরের উপর নির্ভর করতে হবে, অন্যদিকে ছোট পুজোগুলির জন্য থাকবে সরকারের ₹১ লক্ষের আর্থিক সহায়তা। নতুন এই নীতির ফলে সরকারি পুজো অনুদানের দীর্ঘদিনের সর্বজনীন কাঠামো বদলে প্রয়োজনভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

