NRS হাসপাতালে শৌচাগারে নার্সের দেহ উদ্ধার, দরজা ভেঙে ঢুকল পুলিশ; রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্ত

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) এক নার্সের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের গাইনোকলজি বিভাগের HDU-র শৌচাগার থেকে ৩০ বছর বয়সি নার্স রূপালি বর্মনের দেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ শৌচাগারের দরজা বন্ধ থাকার পর সহকর্মীরা বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা নাগাদ গাইনোকলজি বিভাগের HDU-তে ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন রূপালি। নার্সিং স্টেশনে রিপোর্ট করার পর তিনি এক রোগীর দেখাশোনা করেন। এরপর রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ HDU-র শৌচাগারে যান। বেশ কিছুক্ষণ পরেও তিনি ফিরে না আসায় রাত ১০টা ২৭ মিনিট নাগাদ সহকর্মীরা বাইরে থেকে তাঁকে ডাকতে শুরু করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও উত্তর না পাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে তাঁকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে ট্রলিতে করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। কী কারণে মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তের দায়িত্ব ইতিমধ্যেই হোমিসাইড বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আত্মহত্যা বলে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিক দলও যুক্ত হচ্ছে। শৌচাগারের বাইরে থাকা CCTV ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশ সংগ্রহ করেছে। ওই ফুটেজে নার্সের শৌচাগারে ঢোকার পর থেকে পরবর্তী সময়ের ঘটনাক্রম ধরা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে হাসপাতালের অন্যান্য CCTV ফুটেজও পরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
রূপালির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, মৃত্যুর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন কি না অথবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও ওই রাতে ডিউটিতে থাকা কর্মীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনায় NRS হাসপাতাল চত্বরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন কর্তব্যরত নার্স কীভাবে হাসপাতালের শৌচাগারের ভিতরে অচেতন হয়ে পড়লেন এবং কেন তাঁর সহকর্মীদের দরজা ভাঙতে হল—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্ত, CCTV এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট সামনে আসার পরই এই রহস্যমৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

error: Content is protected !!