হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিউড়ির পার্টি অফিসে ফের যাবেন অনুব্রত, মহালয়ার আগের দিন যাওয়ার ঘোষণা ঋতব্রতের

সিউড়ির তৃণমূল পার্টি অফিসে অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তাঁকে ফের ওই দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত-সহ ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। সেখানেই ঋতব্রত জানান, হামলা করে অনুব্রতকে আটকে রাখা যাবে না। মহালয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ৯ অক্টোবর, ফের সিউড়ির ওই পার্টি অফিসে যাবেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথায়, কেউ তাঁকে আটকাতে পারবে না এবং ফের কোনও হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিবাদ করা হবে। বুধবার সিউড়ির পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে তৃণমূলের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন অনুব্রত। সেই সময় তিন যুবক হাতে মোটা গাছের ডাল ও লাঠি নিয়ে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। কাচের টেবিল, এসি, চেয়ার-সহ অফিসের একাধিক জিনিস ভাঙচুর করা হয়। অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর তিন যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে অনুব্রত নিজে কোনও অভিযোগ দায়ের না করায় এবং পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা না হওয়ায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের কেন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বেছে বেছে তাঁদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিজেপির ‘বি টিম’ বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে তাঁদেরই বারবার আক্রান্ত হতে হচ্ছে। ঋতব্রত বলেন, আক্রমণ যত ধারালো হবে, তাঁদের প্রতিবাদও তত শানিত হবে। এদিন অনুব্রতকে পাশে নিয়ে তিনি আরও বলেন, অনুব্রত শুধু দলের জেলা সভাপতি নন, তিনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক। সিউড়ির ঘটনায় যা ঘটেছে, তার নিন্দা করার কোনও ভাষা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, বুধবারের ঘটনার পর অনুব্রতকে পুলিশি নিরাপত্তায় সিউড়ি থেকে বোলপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে মহালয়ার আগের দিন ফের সিউড়ির পার্টি অফিসে অনুব্রতর যাওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

error: Content is protected !!