‘হিন্দু-মুসলিম করবেন না’, রেজিনগরে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে হিন্দু-মুসলিমের ভিত্তিতে রাজনীতি না করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার প্রচারসভা থেকে তিনি বলেন, রেজিনগরে ‘৭০-৩০’ শতাংশের হিসাব নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয় এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবার কাজ করবে না। একইসঙ্গে উন্নয়নকে সামনে রেখে রেজিনগরকে ফলতার মতো ‘মডেল বিধানসভা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার, তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদও ভোটের ময়দানে রয়েছেন। প্রচারসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ না করে উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনায় রেজিনগরের ৭০ হাজার মহিলা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৩৫ হাজার জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আয়ুষ্মান যোজনা-সহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাতেও কোনও ভেদাভেদ করা হবে না বলে জানান তিনি। রেজিনগরকে নিজের বিধানসভা এলাকার মতো করে দেখার কথাও বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র, ২০০ শয্যার হাসপাতাল, সেতু, কলেজ এবং শিল্পতালুক গড়ে তোলা। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রেজিনগর থেকে বাইরে কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে আগামী দুই বছরের মধ্যে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শিল্পতালুক তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দেড় বছরের মধ্যে এলাকায় কারখানার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান। প্রচারে বিরোধীদের আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আগের নির্বাচনে হিন্দু-মুসলিমের বিভাজনকে সামনে রেখে রাজনীতি করা হয়েছিল। এবার সেই পথে না গিয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে হাসপাতাল, কলেজ, শিল্প ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই তাঁর বক্তব্যে প্রধান জায়গা পেয়েছে।

error: Content is protected !!