
পুজোর ‘প্রিভিউ শো’ পাস-কাণ্ডে বিস্ফোরক নথি ইডির, ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে তদন্তে আরও জোর
দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপুজোর কয়েকটি মণ্ডপে বিশেষ ‘প্রিভিউ শো’ ও ‘প্রিভিলেজড পুজো এন্ট্রি’-র নামে টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সঙ্গে ওই সংগঠনের যোগ থাকার কথাও উঠে এসেছে। ইডির দাবি, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো UNESCO-র ‘Intangible Cultural Heritage’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ‘মাস আর্ট’ সংগঠনটি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার নামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার প্রায় ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপকে এই ‘প্রিভিউ শো’-এর আওতায় রাখা হয়েছিল এবং পাসের দাম ছিল প্রায় ₹১,৭৪৯ থেকে ₹৫,৪৯৯ পর্যন্ত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, যেন UNESCO-ই ওই পুজোগুলি বেছে নিয়েছে বা কর্মসূচিটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত UNESCO-র সঙ্গে ওই সংগঠনের কোনও সরকারি অংশীদারির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পাসের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার মানুষের রেজিস্ট্রেশনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে খবর। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি থেকে প্রায় ₹৫০ থেকে ₹৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। এই বিপুল অর্থ কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সুবিধা পেয়েছেন এবং পুজো কমিটিগুলির ভূমিকা কী ছিল—সবকিছুই খতিয়ে দেখছে ইডি। ইতিমধ্যেই গত মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, তাঁর আত্মীয়দের কয়েকটি ঠিকানা এবং ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তের বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এরপর বুধবার ইন্দ্রনীল সেনকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয় এবং প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডির দাবি, তল্লাশির সময় তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে ‘Platinum Family’, ‘Platinum Couple’, ‘Platinum Single’, ‘Gold Pass’ ও ‘Silver Pass’-এর মতো বিভিন্ন পাসের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু পুজোমণ্ডপে পাসধারী দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগে বউবাজার থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ইডি আর্থিক তদন্ত শুরু করে। ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ফলে তদন্তে উঠে আসা নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

