
উচ্চমাধ্যমিকে কি উঠে যাচ্ছে সেমেস্টার প্রথা? শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের মন্তব্যে জল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পরীক্ষার নিয়মে বদল আসতে পারে কি না, তা নিয়ে পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়ুয়ারা যথাযথভাবে উপকৃত হচ্ছে না বলে অনেক শিক্ষক তাঁকে মতামত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “অনেক মাস্টারমশাই আমাদের বলেছেন যে সেমেস্টার সিস্টেমে ছাত্ররা যথাযথ উপকৃত হচ্ছে না। একটা বড় অংশের ধারণা এটাই।” শিক্ষক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত মতও এই বিষয়টি পর্যালোচনা করার পক্ষে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনই সেমেস্টার পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্লেখ্য, রাজ্যে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয়। সেই নিয়মে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে মোট চারটি সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে হয় পড়ুয়াদের। আগে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা মূলত দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে নেওয়া হত। নতুন পদ্ধতিতে একাদশ ও দ্বাদশ—দুই শ্রেণির মূল্যায়নকে একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভাগ করা হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, ঘন ঘন পরীক্ষার চাপ, প্রস্তুতির সময় এবং পড়াশোনার সামগ্রিক মানের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, সেমেস্টার পদ্ধতি চালুর সময় বোর্ডের যুক্তি ছিল, পরীক্ষার চাপ ভাগ করে দেওয়া এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করা। এবার শিক্ষকদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনায় রাখা হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে সেমেস্টার পদ্ধতি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হবে, নাকি নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত পড়ুয়া ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা শিক্ষা দপ্তর ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই জানানো হবে।

