কাজল শেখের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, উদ্ধার ৭ এমএম পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি! নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দিনেই নতুন বিতর্ক

বীরভূমের নানুরে হাসনের বিধায়ক কাজল শেখের পরিবারের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নানুর থানার পুলিশ প্রথমে বোলপুরের আরতি সংলগ্ন এলাকায় কাজল শেখের ভাইপো শেখ হুমায়ুন হোসেন ওরফে ফিলিপের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপর পাপুড়ি গ্রামে কাজল শেখের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, তল্লাশিতে একটি ৭ এমএম আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজল শেখের দুই ভাইপো শেখ হুমায়ুন ওরফে ফিলিপ এবং শেখ জাহাঙ্গির ওরফে লয়েডের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার যোগসূত্র এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এই অভিযানের দিনেই কাজল শেখের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিধানসভায় বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়ার মিষ্টি বিনিময়ের পর থেকেই কাজল শেখের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছিল। কাজল বর্তমানে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল শিবিরের বিধায়ক। শোভনদেবের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়কে তিনি রাজনৈতিকভাবে শিবির বদলের ইঙ্গিত বলে মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, বিজয়ার মিষ্টিমুখ বাংলার সংস্কৃতির অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের তল্লাশি এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও তল্লাশি অভিযানের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। আপাতত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা, ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলার তদন্ত এবং কাজল শেখের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক—তিনটি বিষয়ই বীরভূমের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

error: Content is protected !!